চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৫ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রিমু আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগ সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : তদন্ত কমিটি গঠন

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ৫, ২০১৬ ১২:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Exif_JPEG_420

শহর প্রতিবেদক: সহপাঠির আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচণাদাতাদের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ করেছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রায় দু ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমুর আত্মহত্যা প্ররোচণায় জড়িতদের শাস্তির দাবী তুলে বিক্ষোভ করে তারা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসানুজ্জামানকে দোষারোপ করে তার শাস্তির দাবী জানায় ছাত্রীরা। গতকাল রোববার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। ফলে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি গঠনের পরে প্রায় দু’ঘন্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা। এদিকে ওই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। গত শনিবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির গণিত পরিক্ষা ছিলো। পরিক্ষা শেষে সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে নবম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া সুলতানা রিমু গলাই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, সিলেবাস অনুযায়ি গণিত পরিক্ষার প্রশ্নপত্র না হওয়ায় সকল শিক্ষার্থীর পরিক্ষা খারাপ হয়। পরিক্ষা চলাকালীন অন্যদিকে তাকানোর দায়ে ছাত্রী রিমুর উত্তরপত্র কেড়ে নেন শিক্ষক হাসানুজ্জামান। দিশেহারা হয়ে পড়ে সকল শিক্ষার্থী। শ্রেণি কক্ষে খাতা কেড়ে নেয়া এবং পরিক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে শনিবার সন্ধ্যায় নিজবাড়িতে আত্মহত্যা করে রিমু।
গতকাল রোববার পরিক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। স্কুলছাত্রী রিমু আত্মহত্যা প্ররোচণায় জড়িতদের শাস্তির দাবীতে ফুসে ওঠে তারা। মূহুর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে বসে সড়ক অবরোধ করে। এসময় অভিভাবকরাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসানুজ্জামানকে দোষারোপ করে তার শাস্তির দাবী করে। তারা অভিযোগ তোলে শিক্ষক হাসানুজ্জামান স্কুলছাত্রী রিমুর উত্তরপত্র কেড়ে নেন। তিনিই জটিল প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভকারীরা দিতে থাকে নানা শ্লোগান। উত্তেজিত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে বসে অবরোধ করে। চুয়াডাঙ্গার শহীদ আবুল কাশেম সড়কে প্রায় দু ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন কর্মকর্তারা। উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছূফি উল্লাহসহ কর্মকর্তাবৃন্দ। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণার পর বেলা ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।

Exif_JPEG_420
কিন্তু শিক্ষক হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সুরাইয়া যে কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছিল সেই কক্ষের সব শিক্ষার্থী জানে যে, তিনি ওই কক্ষে দায়িত্বরত ছিলেন না। তাছাড়া তিনি প্রশ্নপত্রও তৈরি করেননি।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আসগর আলী জানান, শিক্ষক হাসানুজ্জামানকে দোষারোপ করছে অনেকেই। তিনি দোষী নন। তিনি সুরাইয়ার খাতা কেড়ে নেননি। তারপরও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন, এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।