চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফাঁড়ি পুলিশের অভিযান ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই দালালের জরিমানা

342

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফাঁড়ি পুলিশের অভিযান
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই দালালের জরিমানা
IMG_20170223_125154নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে দুই দালালকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে আরেফিন ও ইমরান নামের দুই যুবককে এ দ- প্রদান করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর পুলিশ তাদের আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদর ইউএনও মৃনাল কান্তি দে প্রত্যেককে নগদ ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দালালের উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। বহিঃবিভাগ এবং আন্তঃবিভাগে স্বেচ্ছাসেবকের রুপ ধরে অনেকেই দালালি করে আসছে। বহিঃবিভাগে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে রোগীর পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ভাগিয়ে নেয় তারা। ফলে সাধারণ রোগীদের রোগ নির্নয়ের খরচ এবং দালালী খরচের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। রোগীর বয়স্ক স্বজনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অনেক স্বেচ্ছাসেবক নিজেই রোগীর কাছে টাকা নিয়ে ওষুধ কিনতে যান। হাসপাতালের ভিতরে থাকাকালীন বয়স্ক রোগী দেখে তাদের কষ্ট হলেও বাইরে এসে কষ্টের কথা ভুলে যায় তারা। ফলে রোগীরা ওষুধের অপেক্ষায় থাকলেও দেখা মেলেনা।
চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে সদর হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এসময় হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারের সামনে থাকা দুই যুবকের পরিচয় জানতে চাইলে অস্বাভাবিক আচরণ করে। পরে দুই যুবক আরেফিন ও ইমরানকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি দে হাসপাতাল চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। আদালতে যুবকরা তাদের দোষ স্বীকার করে এবং পরবর্তিতে দালালী না করার অঙ্গিকার করে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত চুয়াডাঙ্গা গুলশানপাড়ার রমজান আলীর ছেলে আরেফিন (৩০) এবং একই পাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে ইমরানকে (২০) নগদ দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। সাথে সাথে জরিমানার টাকা পরিশোধ করায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, দ-প্রাপ্ত দুই যুবক ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের পরিচয় গোপন রেখে ভূয়া পরিচয় দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল এলাকার স্থানীয়রা। এদের মধ্যে আরেফিন নামে পরিচয় দেয়া যুবক হাসপাতাল এলাকায় রঞ্জু নামে পরিচিত এবং ইমরান পরিচয় দেয়া যুবক ইকবাল নামে পরিচিত বলে জানান তারা।