চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৬ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা

১৫ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ৭১ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বাড়তে শুরু করেছে ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা। জ্বর, কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও সর্দিসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ও অন্ত বিভাগে ভীড় করছেন অভিভাবকেরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠাই না পেয়ে বারান্দাতে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। আর অতিরিক্ত এই শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাপসাতালের চিকিৎসক ও নার্স।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও অন্তবিভাগ ঘুরে দেখা যায়, বর্হি বিভাগে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কক্ষের সামনে শিশু রোগীর অভিভাবকদের লম্বা লাইন। নিজ সন্তানের ভালো চিকিৎসার আশায় তাঁরা অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাপসাতালে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ভীড় করছেন। প্রতিদিন বর্হিবিভাগে ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করছে ৩ শতাধিক শিশু। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে, হাসপাতালের অন্ত বিভাগেও। শিশু ওয়ার্ডে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪টি, অতিরিক্ত ৯ শয্যা ও দুইটি কেবিনসহ এই ওয়ার্ডে মোট শয্যা সংখ্যা ২৫টি। আর ২৫ শয্যার বিপরীতে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছিল ৭১ জন শিশু। যা শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার প্রায় ৩ গুণ। শয্যার পাশেই শিশুদের মা বসে আছেন। সন্তানের সুস্থতায় এভাবেই দিনের পর দিন পার করছেন তারা।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশু রোগীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘শনিবার মাঝরাতে তাঁর শিশুকন্যা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সকালে হাপসাতালে নিলে চিকিৎসক ভর্তি করিয়ে নেন। হাপসাতালের শিশু ওয়ার্ডে বিছানা না পেয়ে প্রথম দিন মেঝেতে বিছানা পেতে ছিলাম, আজ একটি বেড পেয়েছি। আমার মেয়ের আগের থেকে কিছুটা সুস্থ। তবে হাসপাতালে অনেক সমস্যা রয়েছে, একদিকে বেড সংকট অন্যদিকে ডাক্তারও কম। তাছাড়াও হাসপাতালে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ওয়ার্ডের মধ্যে স্থান সঙ্কুলান হওয়ায় ওয়ার্ডের বাড়ান্দাতেও বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত এই রোগীদেরকে চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমত তাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন দুইশর অধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্তদের সেরে উঠতেও দেরি হচ্ছে। কারো কারো ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৪ দিন লেগে যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কট থাকায় রোগীর চিকিৎসা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত দুএক সপ্তাহ ধরেই এ অবস্থা চলছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বর্ষা ও আবওহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ডাক্তার ও নার্স রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। শয্যা সংখ্যা কম থাকায় তাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।