চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৩ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলনে খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগাঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

দেশের জনগণকে সীমাহীন লুটপাট দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ৩, ২০২২ ৪:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সাধারণ সম্পাদক লিপটন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মনি ও সাধারণ সম্পাদক পল্টু নির্বাচিত

সমীকরণ প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা শহরের চাঁদমারি মাঠে দুই পর্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে দশটায় সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবু। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনার সভাপতিত্বে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগাঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির খুলনা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।

প্রধান অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ নিদারুণ জীবনযাপন করছে। অবৈধ সরকারের দায়িত্বহীন আচরণ আর সীমাহীন লুটপাট দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। দেশের মানুষ আজ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে মুক্তির আশায়। তাই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। আপনারা তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ এই দলের প্রাণশক্তি। আপনারা প্রস্তুত থাকুন চূড়ান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য।’

সম্মেলনের উদ্বোধক চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান বাবু খান বলেন, ‘সম্মেলনের মাধ্যমে যাদের উপর দায়িত্ব অর্পিত হবে, তাদেরকে যথাযথভাবে সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। অন্যথায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা নিয়মিতভাবে দলের সকল স্তরের কাউন্সিল করার জন্য বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিন কমিটি আটকে থাকার যে জটিলতা সেটি আর হতে দেওয়া হবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দল এখন গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।’
অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাজানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনাব তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করায় আমাদের লক্ষ্য। আপনারা আস্থা রাখুন, কথা দিচ্ছি দলের জন্য যাদের এতটুকুও অবদান তাদের সকলকে স্মরণে রাখা হবে।’

কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেন, ‘পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে বিএনপি কখনই ছিল না, আমরা পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কথা বলছি। জনগণের টাকায় পদ্মা সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটও করা হয়েছে। একদিন ঠিকই এই দুর্নীতির হিসাব দিতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য মনিরুজ্জামান লিপ্টন এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, নুর নবী সামদানী, মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান শেখন, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান লিটন, আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাকিম মুন্সী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান লাল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন স্বপন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাকের আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক বকুল, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হ্যাজি, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব কাউন্সিলর মহলদার ইমরান রিন্টু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হাসান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রউফুন নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি পদে মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহমুদুল হক পল্টু, সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সোহেল আহমেদ মালিক সুজন নির্বাচিত হন। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে মো. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মনিরুজ্জামান লিপ্টন, সিনিয়র সহসভাপতি পদে এম আর মুকুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. মহাবুল হক সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মো. আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কাউন্সিলররা নির্ধারিত বুথে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশনে প্রধান কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাড. সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলাম, সহকারী কমিশনার ছিলেন অ্যাড. খন্দকার শহিদুল ইসলাম মানি

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।