চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ঝিনাইদহসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিবনগর দিবস পালিত: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : কলকাতা মালয়েশিয়া সৌদিতেও প্রবাসী বাঙালীদের নানা আয়োজন

312

সমীকরণ ডেস্ক: ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সকাল সাতটায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তিনি এ শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরো একটি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দীপু মনি, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, হাছান মাহমুদ ও আবদুস সোবহান গোলাপসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পূর্বপ্রান্তে মিরপুর সড়কে জড়ো হতে থাকেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘মুজিবের বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’, শ্লোগান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ ঢাকা কলেজ শাখা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
কলকাতা: ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের উদ্যোগে ৮নম্বর থিয়েটার রোডের ওই ভবনের মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। আর সেদিনের এই সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় ছিল কলকাতার ঐতিহাসিক থিয়েটার রোডের ৮নম্বর বাড়িটি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এই বাড়িটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তুলে দেয় শ্রী অরবিন্দ আশ্রমকে। ১৯৭৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই ভবনটির যাত্রা শুরু হয় শ্রী অরবিন্দ ভবন হিসেবে। আলোচনা সভায় তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন কলকাতা দূরদর্শনের সাবেক বার্তা সম্পাদক ভবেশ দাস ও প্রবীণ সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত। বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার জকি আহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী। আলোচনাসভা শেষে কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন।
সৌদি আরব: দিবসটি উপলক্ষে সৌদি আরবের রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার বিকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মিশন উপ প্রধান ড. মো. নজরুল ইসলাম। দূতাবাস কার্যালয় প্রধান মুনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনান যথাক্রমে কাউন্সিলর (ইকোনমিক) মোহাম্মদ আবুল হাসান ও কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) ফরিদ আহমেদ। পরে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মালয়েশিয়া, যথাযোগ্য মর্যাদায় মালয়েশিয়াতেও ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকমিশনের হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন ডিফেন্স উইং প্রধান এয়ার কমোডর হুমায়ন কবির ও দূতালয় প্রধান বেগম ওহিদা আহমেদ। আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। দিনটি জাতীয় জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
শহর প্রতিবেদক জানিয়েছে, যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে গতকাল সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেব প্রসাদ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদিন খোকন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান। আলোচনা সভায় বক্তারা দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন। আলোচনাসভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করে।
আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর আলী, আবাসিক প্রকৌশলী আবেদ আলী, কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দুই অংশের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, খ. হামিদুল ইসলাম আজম, আল-ইকরা ক্যাডেট একাডেমির অধ্যক্ষ আব্দুল হাই, শিক্ষক এনামুল হক, সিএ ফইজুল ইসলাম ও নাজমুল সাইহাম।
শহর প্রতিনিধি জানিয়েছে, দামুড়হুদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল  ৩ টায় দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার সুফি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)রফিকুজ্জামান খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মৎস অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযুব আলী,সমাজ সেবা অফিসার ছানোয়ার হোসেন, দামুড়হুদা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক আসমত আলী, আক্কাস আলী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জীবননগর অফিস জানায়, ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে জীবননগর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকীসহ সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সূধীবৃন্দরা।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানায়, নানা আয়োজনে ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথ তলায় আম্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন জাহান, প্রাক্তন উপ-সচিব আবু বক্কর, জেলা তথ্য কর্মকর্তা এএসএম কবীর, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আয়ুব হোসেন, সাবেক পৌর মেয়র আনিছুর রহমান খোকা, ঝিনাইদহ মহিলা পরিষদের সভাপতি মনোয়ার খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মিনা সেলিম বক্তব্য রাখেন। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ দিবসটি উপলক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
মহেশপুর প্রতিনিধি জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় মহেশপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরআগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমানের নেতৃত্বে শহরে সর্বস্তরের মানুষের সরব অংশ গ্রহণে র‌্যালী করা হয়। আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন।