চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২২ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ২৬ হাজার ২২৯টি জমির দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২২, ২০২২ ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে আরো ২৬ হাজার ২২৯টি জমিসহ ঘর হস্তান্তর করেছেন। ‘দেশে একজন মানুষও গৃহহীন, ভূমিহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এর মাধ্যমে দেশের ৪৯২টি উপজেলার ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৫ জন মানুষ নিজের ঠিকানা পেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সবগুলো উপজেলাসহ ৫২টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবেও ঘোষণা দেন। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের কাছে ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে, সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে একযোগে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশে একযোগে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা:

চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৩য় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ১৬৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঈদ উপহার হিসেবে জমির দলিলসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ প্রান্তে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মলেনকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোর্য়াদ্দার ছেলুন এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর। তিনি একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্নও দেখেন। বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলার স্বপ্ন তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মৌলিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে অন্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থান। এক সময় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এদেশের মানুষ প্রচন্ড অভাবের তাড়নায় কচুঘোটা খেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে মানুষ ভালোভাবে খেয়ে-পড়ে দিনপার করছে। এখন আর কোনো অভাব নেই। তিনি আরও বলেন, এদেশের একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের উপহার হিসেবে জমিসহ একটি করে বাড়ি দিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম ভুঁইয়া, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ সানা।

চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি সরদার আল আমিন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাজাজাদী মিলি। অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শেখ মো. রাসেল।

তৃতীয় পর্যায়ে ঘরপ্রতি বরাদ্দ ছিলো ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫ শ টাকা। তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় ১৬৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। জমি, নামজারীসহ সকল কাগজপত্র একটি ফোল্ডার করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের নামেই জমি লিখে দেওয়া হয়েছে। এতে করে নারীর অধিকারও যাতে নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪২টি, আলমডাঙ্গায় ৩৭টি, জীবননগরে ৪৯টি ও দামুড়হুদায় ৩৮টি। তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে অর্থাৎ গত ঈদুল ফিতরে ১৫১টি ঘর উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আলমডাঙ্গা:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালী সভায় গৃহহীনদের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদানের শুভ উদ্বোধন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আলমডাঙ্গায় ৬৩ গৃহহীন পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘর ও জমি পাচ্ছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে গৃহহীনদের মাঝে জমি ও গৃহ হস্তান্তরের শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিয়া পারভীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারহাহান নিতু, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি রেজওয়ানা নাহিদ, ওসি সাইফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী মাষ্টার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নুর।

জীবননগর:

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে তৃতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় ধাপে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর উপজেলার ৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জীবননগর উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলার ৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যদের হাতে ঘরের চাবি ও জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিথি মিত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন দলু, রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি সদস্য শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার প্রমুখ।

মেহেরপুর:

“আশ্রায়ন প্রকল্প”-২ এর আওতায় মেহেরপুর সদর উপজেলায় তৃতীয় ধাপে প্রথম পর্যায়ের ৮৪টি পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদানের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রিপনের সভাপতিত্বে ভূমিহীনদের মাঝে ভুমি ও গৃহ প্রদান করেন মেহেরপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃধা মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লতিফুন্নেছা লতা প্রমুখ।

মুজিবনগর:

মুজিববর্ষে দেশের একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশব্যাপী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে নবনির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের উন্নত জীবন গঠনে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সোনার বাংলা গড়তে দেশে কোনো ঠিকানাবিহীন বা গৃহহীন মানুষ থাকবে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন তৃতীয় পর্যায়ে ছয়জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের বসবাসের জন্য জমির দলিল ও নতুন ঘরের চাবি তুলে দেয়।

ঘরের দলিল হস্তান্তর উপলক্ষে গতকাল সকালে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জমির দলিল ও নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মনসুর আলম খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) অপু সরোয়ার, মুজিবনগর থানার অফিসার  ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি রাসেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন, দারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তকিম হক খোকন কমান্ডারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, আওয়ামী লীগসহ অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধিবৃন্দ।

গাংনী:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ২৬ হাজার ২২৯ টি গৃহহীন পরিবারকে তৃতীয় পর্যায়ের ২য় ধাপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।

ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গাংনী নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মৌসুমী খানমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গৃহহীন পরিবারের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ খালেক, গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে তৃতীয় পর্যায়ের ২য় ধাপে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সকালে শিল্পকলাএকাডেমী মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে ঘরের চাবি ও দুই শতক জমির দলিল তুলে দেন। এবার জেলার ৬ উপজেলায় ২৫৭টি ঘর উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

হরিণাকুণ্ডু:

হরিণাকুণ্ডু উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একযোগে সারাদেশের ৫২টি উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন নতুন করে হরিণাকুণ্ড উপজেলার ৩৪টি পরিবারকে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।

হরিণাকুণ্ড উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মোট ১০১জন ভূমিহীনকে ঘর ও জমি দেওয়া হয়েছে। গতকাল তৃতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ঘর পাওয়া ৩৪জন উপকারভোগী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তাদের আবেগ অনুভূতি তুলে ধরেণ।

রেহেনা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘আমার ঘর ছিল না, ছিল না কোনো জায়গা জমি। মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে আমি পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে যাযাবরের মতো ঘুরেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর দিয়েছেন। এই ঘর আমার সুখের নীড়। আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে এই ঘরে বসবাস করছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন এই উপকারভোগী নারী।’

উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাঝে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুস্মিতা সাহা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রথিন্দ্রনাথ রায়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, এসিল্যান্ড তানভীর হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেশমা খাতুন, প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, শরাফত দৌলা, নাজমুল হুদা তুষার, বসির উদ্দিন, মঞ্জুর রাসেদ, প্রেস ক্লাব সভাপতি এম, সাইফুজ্জামান তাজু প্রমুখ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।