চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৯ আগস্ট ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে করোনা ও উপসর্গে সাতজনের প্রাণহানি

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৯, ২০২১ ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০ হাজার ২৯৯ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দেশব্যাপী দফায় দফায় কঠোর বিধি-নিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন চলে আসছে। তবে কোনোভাবেই ঠেকানো যায়নি করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি। এরই মধ্যে চলমান বিধিনিষেধ আগামী বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে শিথিল করে গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে করোনায় আরও ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৯৯ জনের শরীরে।
এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৭ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন ও জেলায় করোনা আক্রান্ত একজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৭ জনের শরীরে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৬১ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ২৪৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৪৭টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২০১টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৮.৯৫ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৪৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৪ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৭ জন ও জীবননগরের ৫ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ২৬ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৩ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ১৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধী অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস নিশ্চিত করেছে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৭৮ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৯ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৪ হাজার ৭৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৩ হাজার ৯৮১টি, পজিটিভ ৬ হাজার ৩৬১ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৬২১ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৫৫১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭০ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯৭ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৮ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত একজন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্তদের ৩৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, গাংনীতে ৭ জন ও মুজিবনগরের ৮ জন রয়েছে। গতকাল রোববার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ২০৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩৮টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৮.৫৩ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ৩৮ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫২৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭০ জন, গাংনী উপজেলায় ২৬৬ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯২ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫৮ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৭০ জন, গাংনী উপজেলার ৫৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৫ জন রয়েছে।
সারাদেশ:
করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে ঈদুল আজহা-পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে দেশে। এই শাটডাউন শেষ হওয়ার আগেই এর মেয়াদ আরও পাঁচ দিন বাড়িয়েছে সরকার। চলমান বিধিনিষেধ আগামী বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে শিথিল করে গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ১১ আগস্ট থেকে বাসসহ গণপরিবহন চালু করা এবং দোকানপাট ও অফিস-আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১০ হাজার ২৯৯ জনের শরীরে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৫ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৬৫২ জনের। ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭০৭টি ল্যাবে করোনার ৪২ হাজার ৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৬২৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন ১২ লাখ ৫ হাজার ৪৪৮জন। সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১২৮ জন, নারী ১১৩ জন। এর মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ৯ জন, ত্রিশোর্ধ্ব ১৭, চল্লিশোর্ধ্ব ১৭, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২৮ ও ষাটোর্ধ্ব ৫৪, সত্তরোর্ধ্ব ৭০, অশীতিপর ৪৯ ও নবতিপর ১২ জন। বিভাগওয়ারী অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ৬২ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৪৫ জন, রাজশাহীতে ৮, বরিশালে ১২, সিলেটে ৭ রংপুরে ১০ ও ময়মনসিংহে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।