চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে করোনা ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু

30

সারা দেশে প্রাণ গেল আরও ২৩৫ জনের, নতুন শনাক্ত ১৫ হাজার ৭৭৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনা আক্রান্ত আরও ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পূর্বে করোনা আক্রান্ত হওয়া আরও ছয় জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪০ জনের শরীরে। এছাড়া গতকাল মেহেরপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৬ জন। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের রেড জোনে ও ইয়োলো জোনে এই তিনজনের মৃত্যু হয়। এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য বিভাগ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে পূর্বে মৃত্যু হওয়া ছয়জনের তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সোমবার সদর হাসপাতালের রেড জোনে এই ছয় জনের মৃত্যু হয়। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪০ জনের শরীরে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৪৩ জনে।
গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে হালিমা বেগম (৩৫), কুতুবপুর ইউনিয়নের মৃত খোদা বক্সের মেয়ে রহিমা খাতুন (৫৫) ও ভিমরুল্লা ফকিরপাড়ার মেহের আলীর স্ত্রী সকিনা বেগম (৫০)।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ২৬৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৪০টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২২৫টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৫.০৯ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৪০ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৫জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৭ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৩ জন ও জীবননগর উপজেলার ৫ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ১১৭ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ২৭৮ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধী অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে সকিনা বেগম করোনা আক্রান্ত হয়ে রেড জোনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মাসের ২৭ তারিখ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। অন্য দুজনের মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৭১ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৮ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৩ হাজার ১৬০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২২ হাজার ৮৯৪টি, পজিটিভ ৬ হাজার ১৬৯ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৭০২ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৬১৯ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৮৩ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৭১ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৪৬ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল নতুন আক্রান্তদের ৪৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, গাংনীতে ১৫ জন ও মুজিবনগর ১০ জন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ১৮৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৪৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৫.০ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ৪৬ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৩২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮৪ জন, গাংনী উপজেলায় ২৪৮ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯৭ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬৪ জন, গাংনী উপজেলার ৪৮ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩১ জন রয়েছে।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১ হাজার ৩৯৭ জনে। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ হাজার ২৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এদিন পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৫ হাজার ২৮৪টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ২৯৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৩৫ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে চারজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চারজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন ও মহিলা ৯৫ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৫ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, লনা বিভাগে ৩২ জন, বরিশাল বিভাগে আটজন, সিলেট বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।