চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের স্থগিত ৩ ও ১৫নং ওয়ার্ড নির্বাচন ২০ আগস্ট

354

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের স্থগিত ৩ ও ১৫নং ওয়ার্ড নির্বাচন : সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
আগামী ৩০ জুলাই’র পরিবর্তে ২০ আগস্ট নির্বাচন :  ২ পদের বিপরীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র উত্তোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ২০দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে রির্টানিং কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে আগামী ৪জুলাই মঙ্গলবারের পরিবর্তে ২৪জুলাই সোমবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ৩০জুলাই’র পরিবর্তে আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন উত্তোলন করেন ৫জন প্রার্থী। এরা হলেন, ৩ ওয়ার্ড সদস্য পদে মানিক উজ্জামান ও আকলাকুর রহমান এবং ১৫ নং ওয়ার্ড সদস্য পদে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন সেলিম রেজা, আসাদুর রহমান ও মোহাম্মাদ মাহাবুবুর রহমান।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জিয়াউদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ১০ অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের ০৩ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ২১ জুন জারীকৃত সময়সূচী সংশোধন করে নতুন সময়সূচী ধার্য করা হয়েছে। সংশোধিত সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ০৪ জুলাই’র পরিবর্তে ২৪ জুলাই সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রির্টার্নিং অফিসারের নিকট/অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ০৬ জুলাই’র পরিবর্তে ২৬ জুলাই বর্ধিত করা হয়েছে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ জুলাই’র পরিবর্তে আগামী ০২ আগস্ট পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই’র পরিবর্তে ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো.আনিছুর রহমান জানান, অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধিরাই ভোটার হওয়ায় এ দু’টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬জন। এদের মধ্যে ৩নং ওয়ার্ডে ১০জন পুরুষ ভোটার ও ৩জন নারী ভোটার এবং ১৫ নং ওয়ার্ডেও ১০জন পুরুষ ও ৩জন নারী ভোটার তাদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত করবেন।
এদিকে স্থগিত দু’টি আসনের নির্বাচনে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে বেশ পরিশ্রম করছেন প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে ২টি ওয়ার্ডে ২জন প্রার্থী নির্বাচনের বিপরীতে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন ৫জন প্রার্থী। ৩নং ওয়ার্ড সদস্য পদে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন জেলা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া-দীননাথপুর গ্রামের মো. সরিয়ত উল্লাহ’র পুত্র মানিক উজ্জামান ও একই ইউনিয়নের শ্রীকোল’র মো. বজলুর রহমানের পুত্র আকলাকুর রহমান। অন্যদিকে ১৫ নং ওয়ার্ড সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন জীবননগর উপজেলাধীন উথলী ইউপির সাবেক সদস্য সেলিম রেজা। তিনি সন্তোষপুর গ্রামের মৃত শামসুদ্দীন বিশ্বাসের পুত্র। মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন উথলী গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আসাদুর রহমান এবং খয়েরহুদা গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের পুত্র মোহাম্মাদ মাহাবুবুর রহমান।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলাধীন মাখালডাঙ্গা, নেহালপুর ও বেগমপুর ইউনিয়ন নিয়ে ৩নং ওয়ার্ড গঠিত এবং জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন বিভক্তের পর উথলী, মনোহরপুর ও কেডিকে ইউনিয়ন হলে এ ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৫নং ওয়ার্ড গঠিত। গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অনীহা ও জটিলতা থাকায় আটকে ছিল এ দু’টি ওয়ার্ডের নির্বাচন। সে সময় বলা হয় যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েও ক্ষমতায় আছে তাঁরা ভোটার হিসেবে গণ্য হবে না। এদিকে ভোটার যাচাই বাছাই’র একটি নির্দিষ্ট সময় পর তাদেরকে ভোটার হিসেবে অনুমোদন করা হয়। সবকিছু ঠিকটাক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট সাধারণ সদস্য পদে স্থগিত ৩ ও ১৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।