চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৪ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান

সর্বক্ষেত্রে আইন অবশ্যই আইনের গতিতে চলবে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৪, ২০২২ ২:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জেলা শহরের শহীদ হাসান চত্ত্বরসহ প্রধান প্রধান সড়কে বাস ও অটো চলাচল সুশৃঙ্খল করার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পথচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হওয়া খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসক ফকিরপাড়ায় সরকারি জমিতে পরিবহন মালিক সমিতির অবৈধ ঘর অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন। তা নাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান। তিনি নির্দেশনা দেন, যেসব ইজিবাইকে এখনও উপজেলা ভিত্তিক রঙ পরিবর্তন করা হয়নি, সেসব ইজিবাইকে উপজেলার নাম লেখা বড় স্টিকার লাগাতে হবে। জেলা শহরের শহীদ আবুল কাশেম সড়কের রেলবাজার নামক স্থানের দুটি গাছ দ্রুত অপসারণের সকল প্রকার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রধান সড়কের ধারে ট্রাক রাখার কারণে পথচারিদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তেমনই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুকি। ফলে যতো দ্রুত সম্ভব ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক রাখার ব্যবস্থা করতে পৌর মেয়র দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সকলে উপকৃত হবে।
এছাড়াও দামুড়হুদা উপজেলার লক্ষীপুর দলকা বিল সম্পর্কে বলেন, বিলে অবৈধভাবে কেউ মাছ ধরতে পারবে না। অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগও নেই। উচ্চ আদালতে এবিষয়ে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হওয়া বা কোনো আদেশের কাগজ আমরা হাতে পায়নি। আদালতের রায়ের কাগজ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী খাস কালেকশন অব্যাহত থাকবে। দলকা বিল সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক চলবে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার চক্রান্ত করলে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় তিনি জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুরে সোলার প্যানেল স্থাপন নিয়ে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, জীবননগরের কৃষ্ণপুরে সোলার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণে কেউ জমি বিক্রি করতে না চাইলে করবে না। সরকার অধিগ্রহণ করছে না। বিভ্রান্ত ছড়ানোর সুযোগ নেই। তাছাড়া জমি জোর করে নেয়ার যেমন সুযোগ নেই, তেমনই কোন স্থাপনা ভাংচুর করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ারও এখতিয়ার কারো নেই। সর্বক্ষেত্রে আইন অবশ্যই আইনের গতিতে চলবে। কোন প্রকার হটকারিতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।
সভায় গত সভার কার্যবিবরণি স-বিস্তারে উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান। উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম ভূইয়া, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা উপপরিচালক শরিয়ত উল্লাহসহ বিভিন্ন দফতরের প্রধানগণদের মধ্যে অনেকে। চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করে অনেকেই বলেন, ঈদের আগে সড়কে ডাকাতির ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। মামলা হয়েছে। যত দ্রুত আসামিদের ধরে আইনে সোপর্দ করা সম্ভব হবে ততোই মঙ্গল। আলমডাঙ্গায় এক কিশোরী ধর্ষণের মামলা ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। বাল্যবিয়ে রোধে কিছু কাজীকে বিশেষভাবে সতর্ক করার আহ্বান জানানো হলে জেলা প্রশাসক বলেন, সকল কাজিকে নিয়ে একটি সেমিনার করার বিষয়টি আমাদের কর্মসূচির মধ্যে নিতে হবে।
সর্বশেষে পবিত্র ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করতে পারায় এবং উশৃঙ্খল ছেলে মেয়েদের থানায় নিয়ে সর্তক করার কাজে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সভা থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

 

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।