চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাংসদ আলী আজগার টগর বললেন : বিএনপি-জামায়াত চক্রের অপপ্রচার রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে

381

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ আলী আজগার টগর বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্রের ধারাবাহিক অপপ্রচারে নারী ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোটায় নিয়ে এনেছে। তারা প্রতিনিয়ত গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার ছড়াতে তৎপর। এদেরকে প্রতিহত করতে মুুুুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিকদলগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল রোববার বেলা ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ আলী আজগার টগর উপরোক্ত মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বিগত আট বছরে শিক্ষার হার, বিশেষ করে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেড়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে কথা হচ্ছে। গুজব রটানো হচ্ছে এলাকায় ছেলেধরা আছে, যুবতী মেয়েদের সন্ধ্যার পর ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে ১৭২টি মাথা লাগবে। তাবলীগের বেশ ধরে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব চলতে দেওয়া যাবেনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও তথ্য অফিসকে এগিয়ে আসতে হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে। আমাদেরকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে এদেরকে প্রতিহত করব। মাদকের বিষয়ে সাংসদ বলেন, বিগত আট বছরে মাদকের বিষয়ে কাউকে সুপারিশ করিনি। মাদক ব্যবসায়ী যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখতে হবে। তারা আসলেই ভালো পথে এসেছে, নাকি আগের পেশায় ফিরে গেছে। ফেনসিডিলের বিষয়ে ভারত সরকার এখন সক্রিয়। তাঁরা ফেনসিডিল কারবারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু, ইয়াবা বা বাবা নামে নতুন মাদক যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
উম্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসা বক্তাদের বক্তব্যের জবাবে সাংসদ আলী আজগার বলেন, শিগগিরই দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডবল রেললাইন তৈরির কাজ শুরু হবে। দর্শনা থেকে গোয়ালন্দ ঘাট, অথবা ঢাকা পর্যন্ত নতুন ট্রেন চলাচলের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা রেলগেটে ওভারপাস তৈরি করা হবে। দর্শনায় কন্টেইনার পোর্ট চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলার পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন, ৬ বিজিবির পরিচালক লে.কর্ণেল রাশিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জসিম উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তরিকুল ইসলাম, সরকারি কৌশূলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহা. সামশুজ্জোহা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজীদের কাছে দেওয়া অতিরিক্ত ভলিউম এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত নিতে হবে। এরপর থেকে কাজী অফিসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। সেখানে অতিরিক্ত ভলিউম ও লোক বা কাজীর সহকারি পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় আনা হবে। জঙ্গি তৎপরতা ও গুজব রটানো বন্ধে চার উপজেলায় মসজিদের ইমাম, মসজিদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সমাবেশ করা হবে। যেসব মসজিদের প্রতিনিধি সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলায় ৬০ টি ইটভাটা অবৈধভাবে এবছর পরিচালিত হয়েছে। এসব ভাটাকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া আগামীতে চালাতে দেওয়া হবে না। ইটভাটার নীতিমালা মেনে ভাটা পরিচালনা করতে হবে। রাস্তার পাশে মাটির স্তুপ রাখা চলবে না। রাস্তায় মাটি পড়লে সরিয়ে নিতে হবে। লোহার চাকা সম্বলিত পাওয়ার ট্রিলারের কারণে গ্রামীন সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। লোহার চাকা খুলে না চালালে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জেলার পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ধারের ঝোপঝাড় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকী। এই ঝোপঝাড়ের আড়ালে দুর্বৃত্তরা লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাস করতে পারে। এসব ঝোপঝাড় পরিস্কার করা না হলে পুলিশ বিভাগ তা করবে। সড়কের কোনো প্রকার চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। ভাঙাচোরা সড়ক উন্নয়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডিকে কাজ করতে হবে। গুজবে জড়িত এমন ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুজব কমে এসেছে। জমিজমা সংক্রান্ত অনেক রেকর্ড এখনও ভারতের নদীয়ায় রয়ে গেছে। ওইসব  রেকর্ড ফেরত আনার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।