চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৫ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব : একই দিনে চারজন দংশিত! : হাসপাতালে অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন সরবরাহ বন্ধ : বিপাকে দরিদ্র রোগিরা

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৫, ২০১৭ ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সোহেল সজীব: চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে সাপের উপদ্রব। পৌর এলাকাসহ চুয়াডাঙ্গা সদর এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় একদিনেই চারজন সর্প দংশনের শিকারের ঘটনা ঘটেছে। দংশিত শিশু ও নারীসহ চারজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে, সদর হাসপাতালে অ্যান্টিস্নেকভেনম ইনজেকশন আগে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হলেও বেশকিছুদিন যাবৎ তা বন্ধ রয়েছে। যার কারনে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ফলে রোগির জন্য বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে ইনজেকশন। সাপে কাটা প্রত্যেক রোগিকে ১০টি করে অ্যান্টি¯েœকভেনম দিতে হয়। যার দশটির মূল্য ১০ হাজার টাকা। এছাড়া গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এক রোগিকেই ২৯টি অ্যান্টিস্নেকভেনম ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। যার মূল্য ২৯ হাজার টাকা।
এদিকে, হাসপাতালে অ্যান্টিস্নেকভেনম ইনজেকশন আগে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হতো। বেশকিছুদিন যাবৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাইরে ফার্মেসি থেকে ১হাজার টাকা মূল্যের ইনজেকশন কিনতে হয় রোগীদের জন্য। ফলে, বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র রোগিরা।  তবে, হাসপাতালে অ্যান্টস্নেকভেনম ইনজেকশন না থাকায় ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ফলে প্রত্যেক রোগিকেই বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে ইনজেকশন। প্রত্যেক রোগিকে ১০টি করে অ্যান্টি স্নেকভেনম দেয়া হয়। যার মূল্য ১০ হাজার টাকা। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এক রোগিকেই ২৯টি অ্যান্টিস্নেকভেনম ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। ২৯ হাজার টাকা মূল্যের ইবজেকশন দিয়ে অবশ্য তিনি সুস্থ্য আছেন। এদিকে, হাসপাতালে অ্যান্টিস্নেকভেনম ইনজেকশন আগে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হতো। বেশকিছুদিন যাবৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাইরে ফার্মেসি থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যের ইনজেকশন কিনতে রোগীদের। ফলে, বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র রোগিরা।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাসহ সদর  আলমডাঙ্গায় সর্প দংশনের শিকার হয়ে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামী ইউনিয়নের ঘোষবিলা গ্রামের এক পুত্রবধু সর্প দংশনে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঘোষবিলা গ্রামের মজিবুল ইসলামের স্ত্রী একরেমা খাতুন (৩৫) কে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে দংশন করে। এরপর সকাল ৮টার দিকে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। তার অবস্থা গুরতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রথমে ১০টা এন্টিসে¯œকবেনম দেয় এরপর আরো অবনতি হলে তাকে আরো ১০টা এরপর বিকালের দিকে তার অবস্থা ভাল না হওয়ায় তাকে আবারো ৯টা এন্টি¯েœক ভেনম দেওয়া হয়। সর্বমোট ২৯টি এন্টি¯েœকভেনম দেওয়া হয়। এই ২৯টি এন্টি¯েœকভেনম এর বা যার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় বা যা দেওয়ার কথা ছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এন্টি¯েœকভেনম সাপ্লাই নাই, খুব শিঘ্রই আসবে। কিন্তু একজন গরিব ব্যক্তির কাছে ২৯ হাজার টাকায় এন্টি¯েœকভেনম কেনা সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন সাতগাড়ি গ্রামের সিয়াম নামের এক স্কুলছাত্র সর্প দংশনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতগাড়ী নতুনপাড়ার ফারুক হোসেনের ছেলে সিয়াম (১১) বাড়ীর পাশের বন্ধুদের সাথে খেলছিল এমন সময় কিসে জেন তার পায়ে কামড়দেয় বলে তার মাকে জানায় সে। পরে পরিবারের লোকজনের সন্ধেহ হলে তাকে দ্রত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংকামুক্ত। সে চুয়াডাঙ্গা এমএবারী স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র।
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামের ছমির আলী সর্প দংশনে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় কেদারনগর গ্রামের মৃত ভাদু মন্ডলের ছেলে ছমির নিজ ক্ষেতে ধান লাগানোর উদ্দেশ্যে মাঠে যায়। ধান লাগানোর বিরতিতে অন্য জমিতে বিশ্রাম নিতে যাওয়ার সময় সাপের গায়ের উপর পা উঠে গেলে তাকে দংশন করে। এরপর মাঠে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এখন তার অবস্থা আশংকামুক্ত।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদাহ খাজুরা গ্রামে সর্প দংশনে এক কিশোর গুরতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভাজুরা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে মোহাইমিনুল ইসলাম তাজ (২১) নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপ তাকে কামড় দেয়। সে ঠিক পেয়ে পরিবারের লোকজনকে জানালে তাকে নিয়ে পরিবারের লোকজনকে জানালে তাকে নিয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা এখন আশংকামুক্ত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।