চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১৩ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে ধু¤্রজালের অবসানে সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির নির্বাচন নিয়ে আবারো ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষ দাবি করছেন বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিধি মোতাবেক ঘোষিত তফশীলে অন্তত ১৫জন প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন। এই দাবির স্বপক্ষে সকালে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে তফশীল ঘোষণার দাবি করেন তারা। তবে এই যুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে চেম্বারের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন নিয়ে কোন সংশয় নেই বলে মত প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ আইনী জটিলতা শেষে গত বছরের ১২ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির ২০১৮-২০২০ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফশীল ঘোষিত হয়। ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চেম্বারের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাচাইসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
এ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা- ইয়াকুব হোসেন মালিক, শাহারিন হক মালিক, মন্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সালাউদ্দিন মোঃ মর্তুজা, এসএম তসলিম আরিফ (বাবু), নীল রতন সাহা, একেএম সালাউদ্দিন মিঠু, মো. আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, তাজুল ইসলাম (তাজু), হারুন অর রশিদ, কিশোর কুমার কুন্ডু, মাহফুজুর রহমান জোয়ার্দ্দার (মিজাইল), সামসুজ্জামান, পবিত্র কুমার আগরওয়ালা, আলাউদ্দিন হেলা, মানিকুজ্জামান, মকলেছুর রহমান, ফজলে রাব্বী মুন্সি, মাহবুব আলম, সালাউদ্দিন মল্লিক, হাজী আবুল কালাম, আব্দুল মান্নান, মফিজুর রহমান মনা, জাহিদুল হাসান জোয়ার্দ্দার, দেলোয়ার উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সামসুদ্দোহা মল্লিক হাসু ও তানজির আহমেদ রনি। এছাড়া সহযোগী সদস্য পদে যারা মনোনয়ন উত্তোলন করেন তারা হলেন- নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার, এএনএম. আরিফ, কামরুল ইসলাম, সুরেশ কুমার আগরওয়ালা, মাহবুল ইসলাম সেলিম, ইলিয়াস হোসেন ও ওহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার।
চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির আসন্ন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান পরিষদের সভাপতিসহ ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনের অযোগ্য বলে দাবি তোলেন। স্বপক্ষে তিনি গত বছরের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৫ ডিসেম্বর ঘোষিত গেজেট তুলে ধরেন। তিনি বলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গেজেটের ২১ ক ধারায় কেউ একটানা দুই মেয়াদের অধিক নির্বাচন করতে পারবেন না। সেই হিসাবে ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া বর্তমান সভাপতিসহ ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনের অযোগ্য হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনের সময় সাবেক সভাপতির পক্ষে হেলা- দুলু-সালাউদ্দীনের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পরিষদের ১১জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এই সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘন্টার মাথায় বিকালে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে প্রগতিশীল উন্নয়ন পরিষদের পক্ষে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চেম্বারের সাবেক সভাপতির আনীত অভিযোগ উড়িয়ে দেন বর্তমান সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক। তিনি বলেন, বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫ মার্চ ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করি। নতুন গেজেট প্রকাশ হয়েছে দেড় মাস পর। নতুন গেজেটে বলা বলা হয়েছে এই গেজেট কার্যকরের দিন হইতে নতুন আইন বলবৎ হইবে। তিনি আরো বলেন, গত ২০০২ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনের আলোকে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, অফিস আদেশ প্রাপ্তির পর ১৫০ দিনের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করে প্রত্যেক চেম্বার তাদের নিজ নিজ গঠনতন্ত্র সংশোধন করবে। কিন্তু চেম্বারের সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান লাভলু চেম্বারের বিভিন্ন মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও গঠনতন্ত্র তৈরি না করে তিনি নিজে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমরা গত ২০১৩-২০১৫ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হই এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখি চেম্বার পরিচালনার জন্য তখনকার বিধি অনুযায়ী কোন গঠনতন্ত্র নাই। বিধি সম্মত ভাবে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় একটি গঠনতন্ত্র উপস্থাপন করলে তা সভায় সর্বসম্মত ভাবে অনুমোদিত হয়।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ২০১৫-২০১৭ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি নির্বাচনী বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করে। সে মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গত ২০ মার্চ ২০১৪ তারিখ নির্বাচনের দিন ধার্য করে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে একটি নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করেন। এরপর তফশীল অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও দাখিল করেন। পরবর্তীতে চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু ও পরিচালক রাশেদুজ্জামান মালিক নির্বাচনী বোর্ড ও আপীল বোর্ডের নিকট একটি আপত্তি দাখিল করেন। যা গঠনতন্ত্র পরপন্থী হওয়ায় আপত্তিটি তৎকালিন আপিল বোর্ড খারিজ করে সকল প্রার্থীর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন। আপীল বোর্ডের রায়কে না মেনে আপত্তি দাখিলকারীদ্বয় এফবিসিসিআই এর আপিল অ্যান্ড আর্বিটেশন বোর্ডে আরো একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং-০২/২০১৫। ফেডারেশনের আপিল অ্যান্ড আব্রিটেশন বোর্ডে দায়েরকৃত মামলা নং-০২/২০১৫ এ নির্বাচন বন্ধ এবং সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি রায় প্রদান করেন। যা ছিল আইনের পরপন্থী। যার কারণে মহামান্য হাইকোর্টে ২০১৫-২০১৭ নির্বাচনে মঞ্জুরুল আলম মালিক ও একেএম সালাউদ্দিন মিঠু তাদের প্রার্থীতা বৈধ মর্মে একটি মামলা দায়ের করেন যার নং-৫৩৯৯/২০১৫। যা আজ পর্যন্ত চলমান এবং বর্তমান কমিটিও বিদ্যমান রেখেছে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ। একই সালে চেম্বারের পরিচালক রাশেদুজ্জামান মালিক রাশেদ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে উক্ত ৫৩৯৯/২০১৫ নং মামলাটি খারিজ চেয়ে একটি আবেদন করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু, চেম্বার জজ আদালতে উক্ত ৫৩৯৯/২০১৫ নং মামলাটি খারিজ চেয়ে পুনরায় আর একটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদনটিও চেম্বার জজ আদালত খারিজ করে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে দেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলনের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিলেও সাধারণ ভোটাররা বলছেন, সকল জটিলতা শেষে তফশীল ঘোষিত হওয়ায় উৎফুল্লু সাধারণ ভোটাররা।
উল্লেখ, ২০১৩ সালে বর্তমান পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চেম্বারের দায়িত্ব গ্রহন করেন। দুই বছরের মেয়াদ শেষ হবার পর ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর নতুন নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২০মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। কিন্তু সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু ও রাশিদুজ্জামান নামে এক পরিচালক ঘোষিত তফশীলে ত্রুটি থাকার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে চেম্বারের দুই পক্ষ পাল্টা পাল্টি মামলাতে জড়িয়ে পড়ে। একই ধারাবাহিকতায় আবারো অবতির্ণ হচ্ছেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।