চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কে গাছ ফেলে রোগিবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি

536

18944551_469721113360320_1528380239_n

চুয়াডাঙ্গা জেলার শেষে পাটিকাবাড়ী প্রবেশমুখে যানবাহন থামিয়ে অস্ত্রধারীদের তা-ব
চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কে গাছ ফেলে রোগিবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি
ডাকাতি আতঙ্কে দর্শনা পৌর এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং : চলছে গ্রাম পাহারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কে গাছ ফেলে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ বেশকয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার ভোররাতে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের পাটিকাবাড়ি প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে। এসময় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে রাজশাহী যাওয়া একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করে লুটপাট চালায় ডাকাতরা। কলাভর্তি চারটি আলমসাধু চালকের পকেটে থাকা কয়েক’শ টাকাও নিয়ে নেয় ডাকাত দল। পরে সড়কের গাছ সরিয়ে সেখান থেকে সবাই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলে যায়। চুয়াডাঙ্গা দর্শনার আজমপুর, জীবননগর উথলী ও সিংনগরে পৃথক তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, ঝিনাইদহের রিশখালী গ্রামের আশরাফুলের স্ত্রী সাথী বুকে ব্যাথা অনুভব করায় গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সাথীর হার্ট ব্লক হওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। এরপরেই শুরু হয় রাজশাহী নেয়ার প্রক্রিয়া। সাথীর বাবা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছী গ্রামের নূর আলমের কাছে থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। হাসপাতালের ড্রাইভার শহিদুল ইসলাম সাকুর ভাড়া দেয়া মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সযোগে সাথীকে নিয়ে রাত ৩টার দিকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে দেয়া হয়। পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া জেলার সীমানায় পাঠিকাবাড়ি প্রবেশদ্বারে সড়কে গাছ ফেলে অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করে ডাকাতরা। এর আগেও সেখানে আরও চারটি কলাভর্তি আলমসাধুর গতিরোধ করে আটকে রাখে তারা। এসময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক রায়হানের গলায় ধারালো অস্ত্র দা বাঁধিয়ে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায় ডাকাতদল। এসময় সাথীর স্বামী আশরাফুলের কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা, অ্যাম্বুলেন্সের চালক রায়হানের ১ হাজার টাকা ও হেলপার আলমের ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরে চিকিৎসা করানোর জন্য তাদের কাছে কোন টাকা না থাকায় ৫শ’ টাকা ফেরত দেয় ডাকাতদল। এর আগে কলাভর্তি চারটি আলমসাধু চালকের পকেটে ৫০/৬০ টাকা করে থাকা দু/একশো টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে ডাকাতরা চলে গেলে আলমসাধু চালকরা সড়কে রাখা গাছ সরিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দর্শনা আজমপুর ও সিংনগরে পৃথক দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি আজমপুর ফেরার পথে আজমপুর সড়কে মিজান নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ৫/৬ জনের একটি মুখোশধারী ছিনতাইকারী দল। খবর পেয়ে দর্শন তদন্ত কেন্দের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া দর্শনার পাশ্ববর্তী সিংনগর গ্রামে ফিল্মি স্টাইলে চতুর্থ শ্রেনীর এক ছাত্রীর কানের দুল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার দুপুরের দিকে ছাত্রী সাদিয়া (১০) তার বাড়ির সামনে খেলা করছিল। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী তার কান থেকে দুইটি কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পৃথক দুইটি ঘটনায় দর্শনা ও সিংনগর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত শনিবার রাতে শ্যামপুর মাঠে একদল লোক দেখে মাঠের আমবাগান পাহারায় থাকা কৃষকরা দৌড়ে গ্রামে ছুটে এসে ডাকাত আসার খবর দেয়। এ খবর শ্যামপুর গ্রামের মসজিদের মাইকে প্রচার করে গ্রামবাসীকে জানানো হয়। মাইকের ঘোষণা শুনে সারা গ্রামের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শ্যামপুরে মাইকে ডাকাত দল আসার ঘোষণা শুনে দর্শনা ঘুঘুডাঙ্গা মসজিদসহ পর্যায়ক্রমে পরানপুর রিফিউজি কলনী, মোবারক পাড়া, দর্শনা আজমপুর ও পরানপুর বেলেমাঠ পাড়াসহ সকল মসজিদ থেকে মাইকিং শুরু হয় গ্রামে ডাকাত ঢুকেছে সবাই ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় নেমে আসেন। এ ঘোষণার পর দর্শনা পৌর এলাকায় ডাকাত আতঙ্কে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লার লোকজন লাঠিসোটা ও টর্চ লাইট নিয়ে রাস্তায় ও গ্রামের পাশে মাঠে নেমে পড়ে এবং চিৎকার করতে থাকে। চারিত্রিক হইচই শুরু হয়ে যায়। গ্রামবাসী আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করে দেয়। ফলে ছোট ছোট শিশু, আবাল বৃদ্ধ ঘুম ভেঙ্গে আতঙ্কে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। ফলে দর্শনা পৌর এলাকায় ভয়ংকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উথলী প্রতিনিধি জানিয়েছে, জীবননগর উপজেলার উথলী মোল্লাবাড়ী-আন্দুলবাড়িয়া সড়কের রুপীরচারা বটতলার অদূরে মাঠের মধ্যে বসবাসরত বজলুর রহমান বজলুর বাড়িতে অজ্ঞাত দূর্বত্ত্বরা গতরাত সাড়ে ৯টার দিকে হানা দেয়। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মহিলাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় বলে ওই বাড়ির মালিক বজলু জানায়। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে উথলী, সেনেরহুদা, মৃগমারী ও ডুমুরিয়া গ্রামের শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা ও টর্চ লাইট নিয়ে রাস্তায় ও গ্রামের মধ্যে নেমে পড়ে এবং চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনায় জনমনে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ডাকাতি প্রতিরোধে গ্রাম গুলোতে রাত পাহারা শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেনি জীবননগর থানা পুলিশ।