চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৬ জানুয়ারি ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ৫ই জানুয়ারী গনতন্ত্র হত্যা দিবস পালিত : নয়াপল্টনে মির্জা ফখরুল বিএনপির কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করছে সরকার

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৬, ২০১৭ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

FB_IMG_1483625393717

সমীকরণ ডেস্ক:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারি’ ভোটারবিহীন নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূতিতে বিএনপি সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপির এ কর্মসূচি বানচালের জন্য সরকার দলীয় পেটোয়া বাহিনী ব্যবহারuuuuuuu করছে। আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে প্রজন্মলীগ নামে তাদের একটি পেটোয়া বাহিনী এসে তা-ব চালায় এবং আমাদের একজন নেতাকে মারধর করে। পার্টি অফিসের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন আপনারা বুঝতে পারছেন সরকার কী ধরনের প্রোভেকেশন করছে। সরকার চাচ্ছে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপিকে একটি উত্তেজনাকর ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে।
আমাদের শহর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হাজী মুহাঃ রবিউল ইসলাম বাবলু স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গতকাল ০৫ ই জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয় হইতে মূল সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য হাজী মুহাঃ রবিউল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডঃ এমএম শাহাজাহান মুকুল। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন গত ২০১৪সালের ৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ও জনগণের বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি এই দিনটি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসাবে কর্মসূচী পালন করতে চাই। কিন্তু বিনা ভোটের সরকার তাদের কর্মসূচীকে ভয় পায়। সেই কারণেই পুলিশ দিয়ে সকল কর্মসূচীতে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি জাতীয়তাবাদীর শক্তির পক্ষের সকল জনগণকে রাজপথে এসে একদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। উক্ত কর্মসূচীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সভাপতি মুন্সি আরঙ্গজেব বেল্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য সচিব সাইফুর রশিদ ঝন্ট,ু কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ইকরামুল হক ইকরাম, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ মোঃ রাজিব খান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহজাহান খান, জেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমন, যুবদল নেতা পলাশ, ছাত্রনেতা  শুভ, লতিফ, শুকুর, জজ, রাকিবসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেত্রীবৃন্দ।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গতকাল ০৫ই জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গার সাহিত্য পরিষদ চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি সাহিত্য পরিষদ চত্ত্বর হতে মূল সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেল বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ও সাবেক ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান শরিফ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন গত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ও জনগণের বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি এই দিনটি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসাবে কর্মসূচী পালন করতে চাই। কিন্তু বিনা ভোটের সরকার তাদের কর্মসূচীকে ভয় পায়। সেই কারনেই পুলিশ দিয়ে সকল কর্মসূচীতে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি জাতীয়তাবাদীর শক্তির পক্ষের সকল জনগণকে রাজপথে এসে একদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। উক্ত কর্মসূচীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি আরো উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফাতুল্লাহ মহলদার, থানা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক মুন্সি আলাউদ্দিন, পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন হাসান কাকন, পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান, জেলা যুবদলের সদস্য আশাদুল হক বটুল, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, মনিরুজ্জামান লিপ্টন, আব্দুর রাজ্জাক, হাফিজ মেম্বার, জালাল উদ্দিন জালাল, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, জেলা যুবদলের নেতা ইকরামুল হক ইকরা, সুমন পারভেজ খান, মাসুদ রানা আপেল, ইমরুল হাসান ফটিক, রুবেল হাসান, এরশাদ আলী, কাজল, মোঃ তুহিন, জেলা তরুনদলের আহবায়ক মাবুদ সরকার, জেলা ছাত্রদল নেতা আরিফ আহাম্মেদ শিপ্লব, জেলা ছাত্রদল নেতা ইমরান মহলদার রিন্টু, ছাত্রদল নেতা সাহাবুদ্দিন, রবিউল ইসলাম রবিন, লিমন হোসেন, দুর্জয় সাহা, শান্ত আলী, মুন্না আজিজ, মিশন রহমান, ইমন শেখ, নাফিজ হাসান প্রমূখ। বিক্ষোভ সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জাসাস এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিমুল হাবিব সেলিম।
গাংনী অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা কেরে নিয়ে। গণতন্ত্রের রুপকার বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে উনারা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করছে। পুলিশকে আমাদের পেছনে লাগিয়ে দিয়েছেন যেন আমরা গণতন্ত্র হত্যার বিষয়ে সাধারণ জনগনকে জানাতে না পারি। তার আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। ষড়যন্ত্র নয় তারা বর্তমান প্রতিরোধ করছে। বিএনপি দলকে জনগন থেকে আলাদা করার একটি কুঠকৌশুল করছে। তিনি আরো গায়ের জর দিয়ে প্রতিরোধ করে আমাদের মিছিল মিটিং বাধা দিয়ে বন্ধ করে তারা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করছে। আমাদের চার দেওয়ালের মাঝে আলোচনাসভা করতে হচ্ছে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেরাতে হচ্ছে। আর এটা যদি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হয় তবে হত্যা দিবস কোনটা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র ব্যবস্থাপনায় উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয় আলোচনাসভায় পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মেঘলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলা আরজুমান বানু, মটমুড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, গাংনী থানা যুবদলের সভাপতি আকতারুজ্জামান ও বামন্দি ইউপি বিএনপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর এনামুল হক, ষোলটাকা ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাহারবাটি ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হান্নান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দাল হক, গাংনী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মিরা অভিযোগ করেন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র ব্যবস্থাপনায় উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে মিছিল শেষে আলোচনাসভা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পযর্ন্ত মিছিলটি পুলিশের বাধায় ব্যর্থ হয়ে যায়। পরে অফিসে কক্ষের চার দেওয়ালের মাঝে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এদিকে গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, আইন শৃংখলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দিতে গাংনীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বা বিশেষ কিছু স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।