চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১১ জানুয়ারি ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত : রাজধানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের বিচার করবে

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১১, ২০১৭ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

DSC00065

সমীকরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ উসকে দেয়ার অভিযোগ এনে বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র যারা সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে, তারাই এখন জঙ্গীবাদকে উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা-ের কারণে জনগণ তাদের বিচার করবে। গণআদালতেই তাদের বিচার হবে। কারণ, জঙ্গীবাদ ও এর প্রশ্রয়দাতের স্থান বাংলাদেশ নয়। মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওই সভার আয়োজন করে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য দেশের সকল মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। যারা মনে করেন, আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে বেহেশতে যাওয়া যাবে- তাদের স্থান জাহান্নাম। কারণ, শাস্তি দেয়ার মালিক আল্লাহ। আত্মাঘাতী হামলার মাধ্যমে মানুষের নয়। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ আজ শান্তি ও স্বস্তিতে আছে। কিন্তু সমস্যা হলো- দেশের মানুষ যখন ভালো থাকে খালেদা জিয়ার মনে তখন অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি হয়। অথচ উনিই এতিমের টাকা চুরির দায়ে মামলা খান। যার দায়ে আদালতে হাজিরা দিতে এক দিন যান তো দশ দিন পালিয়ে বেড়ান। এতেই বোঝা যায়, চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আজ সমৃদ্ধির প্রতীক। দেশে আজ ক্ষুধার্ত ও গৃহহারা মানুষ নেই। হতদরিদ্ররা যেমন বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছেন, তেমনি ভূমিহীনরা পাচ্ছেন থাকার ঘর। ভবিষ্যতে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না। এখনো যাদের ঘর নেই, তাদের তালিকা হচ্ছে। প্রত্যেক গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
পঁচাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই ক্ষমতাকে ভোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। দরিদ্র মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে, স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। জাতির পিতা বেঁচে থাকলে আজকের বাংলাদেশ ২০-৩০ বছর আগেই উন্নত দেশের কাতারে গিয়ে পৌঁছাত। যদিও ঘাতকেরা তা হতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করা হয়েছিল। যদিও ২১ বছর পর হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তা রোধ করেছে। আর তার সোনার বাংলার রূপরেখা ধরে সব সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আমাদের শহর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা ও মেহরেপুরসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঘোষিত কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গতকাল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার পক্ষ থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে সকাল ৭টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ। বিকাল ৩টায় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, খুস্তার জামিল। দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. শামসুজ্জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস ওয়ারা সুন্না, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মান্নান নান্নু, শ্রমিক লীগ সভাপতি মো: আফজালুল হক, সভাপতি সেচ্ছাসেবক লীগ সোহরাব হোসেন, যুবলীগ নেতা আরেফিন আলম রঞ্জু, আব্দুল কাদের, সিরাজুল ইসলাম আসমান, টিপু, ডালিম, ছাত্রনেতা রুবায়েত বিন আজাদ সুস্তির, রাজুসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের নিমিত্তে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে এবং সকল অপশক্তির তৎপরতা বিনাশে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানানোসহ অঙ্গিকার ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন জেলা আ.লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে সমাবেশ ও আনন্দ র‌্যালি করেছে সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি কলেজ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কুদরত-ই খোদা রুবেল। কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম লিখন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মিথুন, ফয়সাল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাব্বারুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের কেবিনেট সভাপতি শোভন সরকার, সদর থানা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি জুনায়েদ ইমতিয়াজ প্রমূখ। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা জালাল, তানভির, মিঠুন, বাসার, সান, আরিফসহ কলেজ ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীরা।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ার সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সকালে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যলয়ে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তলোন করা হয়। পতাকা উত্তলোন শেষে দলীয় কার্যলয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো.আ. লতিফ অমল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত সদস্য হাজী মোসাবুল ইসলাম লিটন, মহিলা সদস্য মিতা খাতুন, যুবলীগ নেতা শাহ শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু, মহিলা নেত্রী রেনুকা, রাবিয়া খাতুন, থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলার ওয়াসিম রাজা, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম মানিক, ছাত্রলীগ নেতা মিঠু, জুয়েল প্রমূখ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।