চুয়াডাঙ্গায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যু

58

ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, থানায় মামলা, অভিযুক্ত স্বামী আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় স্বামীর নির্যাতনে নাজমা খাতুন (৩২) নামে দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত নাজমা খাতুন সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের হাজিপাড়ার শিপন আলীর স্ত্রী ও একই উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের ঈদগাহপাড়ার মৃত ইদ্রিস আলীর মেয়ে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিপন আলীকে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে গতকালই শিপন আলীর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহত নাজমা খাতুনের বড় ভাই রমজান আলী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর পূর্বে সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের হাজিপাড়ার শিপন আলীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় নাজমা খাতুনের। শিপন আলী ও নাজমার সাংসারিক জীবনে এক এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময় নাজমা খাতুনকে মারধর করতো স্বামী শিপন আলী। গত মাসের ২৩ তারিখে সাংসারিক খুটি-নাটি বিষয় নিয়ে শিপন আলী ও নাজমা খাতুনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিপন আলী নাজমা খাতুনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় চিকিৎসকের নিকটে নিয়ে সেসময় নাজমাকে চিকিৎসাও করায় শিপনসহ তার শ্বশুড়বাড়ির সদস্যরা। তবে গত মঙ্গলবার রাতে নাজমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সদর হাসপাতালের ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, মৃত্যুর পর নাজমা খাতুনের শ্বশুড়বাড়ির লোকজন তার লাশ নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশটি আটকে রেখে সদর থানায় অপমৃত্যুর বিষয়ে জানায়। পরে পুলিশের কাছে নাজমা খাতুনকে নির্যাতনের বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
নিহত নাজমা খাতুনের বিষয়ে তাঁর বড়ভাই রমজান আলীসহ পরিবারের সদস্যরা জানায়, আমরা নাজমাকে মারধর ও তার অসুস্থতার বিষয়ে কিছুই জানতাম না। নাজমার স্বামী শিপন আমাদের থেকেই সবকিছুই লুকিয়ে গেছে। মৃত্যুর পরে আমরা জানতে পেরেছি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে নাজমা খাতুনকে জরুরি বিভাগে নেয় তাঁর স্বামী। এসময় তিনি জানান পরে যেয়ে মাজায় আঘাৎ লেগেছে নাজমা খাতুনের। এসময় জরুরি বিভাগ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তবে নাজমার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি সদর থানায় জানানো হয়। হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়।
গতকালই মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডে ছিলেন সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় ও মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিহত নাজমা খাতুনের লাশের ময়না তদন্ত শুরু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি স্বামী শিপন আলীর নির্যাতনে স্ত্রী নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। সকালেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিপন আলীকে আটক করা হয়েছে। প্রথমে শিপন আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা কিছু না বল্লেও পরে নির্যাতনের বিষয়টি স্বিকার করেছে তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে আজ (গতকাল বুধবার) নিহত নাজমা খাতুনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।