চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

184

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার জাফরপুরে ইয়াসমিন আরা শাপলা (৩২) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রাজু আহম্মেদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শাপলাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাপলা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলগাড়ী গ্রামের রাজু আহম্মেদের স্ত্রী ও একই উপজেলার জাফরপুর গ্রামের আনিছুজ্জামানের মেয়ে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাপলার মৃত্যু হয়েছে জানালে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তাঁর স্বামী রাজু। চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলগাড়ী গ্রামের রাজু আহম্মেদের সঙ্গে ১৫ বছর পূর্বে বিয়ে হয় ইয়াসমিন আরা শাপলার। কয়েক মাস পূর্বে শাপলার নামে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগরে জমি কিনে দেন তাঁর পিতা আনিছুজ্জামান। এ জমি নিয়ে শাপলা ও রাজুর মধ্যে বিবাদ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল ভোর ৪টার দিকে দরজার পাল্লায় শাপলার হাত থেতলে দেন স্বাামী রাজু। এরপর শাপলাকে নিয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা শেষে শাপলাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে সকাল সাড়ে ছয়টায় স্ত্রী শাপলাকে নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে আসেন রাজু। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান শাপলাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর কথা শুনে লাশ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান রাজু। পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন শাপলার পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাপলার পিতা আনিছুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক মাস পূর্বে মেয়ের নামে নুরনগরে জমি কিনে দিয়েছি। এই জমি রাজুর নামে লিখে না দেওয়ায় আমার মেয়েকে মাঝেমধ্যেই মারধর করত রাজু। শাপলা আত্মহত্যা করেনি, রাজু আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান জানান, ‘ভোর সাড়ে চারটার দিকে এক নারীকে হাসপাতালের নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী রাজু। তাঁদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, দরজার মধ্যে থেতলে গেছে ওই নারীর হাত। এ সময় তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা ফিরে যান। পরে সাড়ে ছয়টার দিকে পুনরায় রাজু তাঁর স্ত্রীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় রাজু জানান, বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে দরজা ভেঙে স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তিনি। এ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই মৃত্যু হয়েছে ওই নারীর। মৃত্যুর কথা জানার পরপরই রাজুকে আর দেখা যায়নি। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় জানানো হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, হাসপাতাল থেকে এক নারীর অপমৃত্যুর বিষয়ে জানতে পেরে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে একটি অপমৃত্যুর মামলা লেখা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা নম্বর-১৪। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।