চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্র সুভাষ হত্যাকান্ড : তিন যুবক আটক : মোবাইল উদ্ধার

428

মোবাইল ও টাকার কারণে এ হত্যাকান্ড- সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্র সুভাষ চন্দ্র সাধু খাঁ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে। গতকাল রাতে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, মোবাইল ও টাকার কারণে এ হত্যাকান্ড হয়েছে। আটককৃতরা হল- ফার্মপাড়ার সুমন (১৫), সিনেমা হল পাড়ার ইরাক (১৪) ও নূরনগর কলোনীপাড়ার ফরহাদ (১৮)।
জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে পান্না সিনেমা হল এলাকার সাহিত্য পরিষদের পাশ থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওই কিশোর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তেষট্টি আড়ীয়া গ্রামের গিরিশনগর বাজার এলাকার শ্রী গনেশ চন্দ্র সাধু খাঁর ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র শ্রী সুবাস কুমার সাধু খাঁ (১৪)। এ ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ এ মামলার তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন টেকনোলজীর ব্যবহার করে গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকাতে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হল- ফার্মপাড়ার মগবুল হোসেনের ছেলে সুমন, সিনেমা হল পাড়ার মিরাজুল ইসলামের ছেলে ইরাক, ও নূরনগর কলোনীপাড়ার খোরাজের ছেলে ফরহাদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকৃত এসকল আসামীরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মোবাইল ও টাকার কারনে সুভাষকে হত্যা করা হয়েছে দাবি পুলিশের।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, গত ২৫ তারিখ রুপছায়া সিনেমা হল এলাকার পাশে সাহিত্য পরিষদের পাশে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ বিষয়ে মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করে তিনজন যুবককে সনাক্ত করা হয়। আজ শহরের বিভিন্ন এলাকাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর বুধবার দিবাগত রাতে গ্রাম থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের পান্না সিনেমা হল এলাকায় ৫ দিন ব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানমযজ্ঞ অনুষ্ঠান দেখতে আসে নিহত সুবাস। কিছু সময় অনুষ্ঠান উপভোগ করলেও গভীর রাত থেকে তাকে আর খুজে পায়নি তার বন্ধুরা। পরে স্থানীয়রা সকালে অজ্ঞাত কিশোরের লাশ দেখে পুলিশের খবর দিলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়াসহ হত্যাকারীদের আটকসহ হত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক গোপাল চঁন্দ্র দাস ও পুলিশ সুপারসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।