চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৮ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় সংক্রমণে রেকর্ড, একদিনে আক্রান্ত ১৯১

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৮, ২০২১ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১৯ জনের প্রাণহানি
সারা দেশে করোনায় প্রথমবার দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু, শনাক্ত ১১ হাজারের অধিক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। টানা দশদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক করে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এবার দুইশতাধিক মৃত্যুর রেকর্ডের সাক্ষি হলো দেশ। একই সময়ে সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্র্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯১ জনের শরীরে, যা জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্তের রেকর্ড। মেহেরপুরে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের মৃত্যু এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৬ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিদিন তৈরী হচ্ছে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১৯১ জনের শরীরে। এটাই জেলায় করোনা মহামারির শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চুয়াডাঙ্গার ৫১৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ১৯১টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ৩২৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৯১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৭৭ জন, আলমডাঙ্গার ৩৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৩১ জন ও জীবননগর উপজেলার ৪৮ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের ৩৭.০৮ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২৬৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৮১৬ জন, আলমডাঙ্গার ৬৯৮ জন, দামুড়হুদায় ৯২১ জন ও জীবননগরে ৮২৪ জন। গতকাল জেলায় নতুন ২৬ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৮৫ জন।
গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে দুজন, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পূর্বে একজনসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের। এর মধ্যে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলায় ও করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
গতকাল সদর হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার মাদ্রাসাপাড়ার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী জরিনা বেগমের (৩০), সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের হাসনহাটি গ্রামের মৃত কদম আলীর ছেলে শাহাদত হোসেন (৬০)। এছাড়াও দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে নাসির উদ্দীনের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে। মুমুর্ষ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগে নেওয়া পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া অন্য তিনজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ডিঙ্গেদহ গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৩২), দামুড়হুদা উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের মোহাব্বত বেগের ছেলে লাভলু বেগ (৫৮) ও জীবননগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের নজর আলীর ছেলে শাহাদত মণ্ডল (৭০) ।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন দুজন ও হোম আইসোলেশনে একজন করোনা আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত রোববার ৩৬৯টি, সোমবার ৩৭২টি ও মঙ্গলবার ৩৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৫১৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ৩৯৪টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৫ হাজার ৯২০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৫ হাজার ৪০২টি, পজিটিভ ৪ হাজার ২৬৬ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৭৫৩ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৬২১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১৩২ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১০৯ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মাত্র গাংনী উপজেলাতেই ৩৫ জন। এছাড়াও সদর উপজেলায় ২৯ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭১৯ জন। ১৪৭৫ জন ইতিমধ্যেই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে গতকাল সকাল ৮ পর্যন্ত এই জেলায় মৃত্যু হয়েছে দুই জনের।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আইজজীবীসহ আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে পাঁচজন ও উপসর্গ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানকালে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ১০৭ জনে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫৬ জন। ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত ঝিনাইদহের ৪৫৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ১৫৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িঁয়েছে ৫ হাজার ১৭৬ জনে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। শয্যা সংখ্যার তুলনায় বেশি রোগীর কারণে চিকিৎসা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫ হাজার ৫৯৩ জনে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ১১ হাজার ৫৬৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার ১৪৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৩৯টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৯৮৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪০২ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২০১ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ১১৫ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৪ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১১৯ জন ও মহিলা ৮২ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১২ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৬ জন, ঢাকায় ৫৮ জন, রাজশাহীতে ১৮ জন, রংপুরে ১৪ জন, চট্টগ্রামে ২১ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, সিলেটে ৯ জন, বরিশালে ৭ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।