চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন ও মতবিনিময়কালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

দ্রুতই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নির্বাচন হবে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘আগামী এক দেড় বছরের মধ্যে সকল মুক্তিযোদ্ধার কথা রেকর্ড করা হবে। কে, কখন, কোথায়, কিভাবে যুদ্ধ করেছেন, জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য রেকর্ড করে রাখা হবে। সকলের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এদেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সব রাস্তা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুতই এই কাজ শুরু করা হবে। ৬ মাস আগে মুক্তিযোদ্ধাদের ভোটার তালিকা অনলাইনে দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের সিডিউল নির্ধারণ করতে পারেন। সিডিউল হয়ে গেলে দ্রুতই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নির্বাচন হবে। যে সকল মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন, তারা ভোটার।’

গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে জেলার দুটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘কোনো মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রের টাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি করে দেয়া হচ্ছে। এই বাড়ি নির্মাণ কাজে কোনো অনিয়ম করা যাবে না। আমরা কাজের সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে চাইনা। অভিযোগ, অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক আরও বলেন, এখন সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপজেলা পর্যায়ের ব্যাংকে পাঠানো হয়ে থাকে। আগের থেকে অনেক সহজ করা হয়েছে। কারো যদি কোনো ভুল ক্রুটি থাকে, তাহলে নিয়মের মধ্যে এসে সংশোধন করে নেন। ভাতা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যে মারা গেছেন, সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর বাঁধানো হবে। ১শ বছর পরেও যেন বোঝা যায় কোনটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। খুব দ্রুতই উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ পাঠানো হবে। ধিরে সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর বাঁধানো হবে। এছাড়াও, আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরও একটি সিনেমা করতে যাচ্ছি। অপারেশন জ্যাকপট। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ ওই সিনেমায় একদিনেই কিভাবে শক্রু জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছিলো, সেসব ইতিহাস থাকবে।

এসময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবেন, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাবেন বাচ্চাদের। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস শোনাবেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সীমান্তের জনগণ অবশ্যই মিয়ানমারের হামলার কারণে আতঙ্কিত। রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ বিষষে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আন্তজার্তিক ফোরামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিয়ামানরের পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন। আমাদের সরকার দক্ষতার সাথে এটি মোকাবেলা করছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হাজী আলী আজগর টগর এমপি, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গির আলম মালিক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভুইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব সানাসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা শহরের এতিমখানাপাড়ায় তিনতলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা।

জীবননগর:
জীবননগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টায় ভিডিও কনফারেন্স মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ইশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, সাবেক সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, জীবননগর থানার ওসি আব্দুল খালেক।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দলিল উদ্দিন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়নি। এটা সংশোধন করা প্রয়োজন। জীবননগরের ধোপাখালীতে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের সেখানে যেতে হয়। তবে সেটি ভারত ও বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে। তাই কবরগুলো সরিয়ে আনলে ভালো হবে। আর জীবননগর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভবনে লোকবল নেই। এতে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয়। এছাড়া সব মুক্তিযোদ্ধারা বয়স্ক। সিঁড়ি বেয়ে তাঁদের তিনতলা ভবনে উঠতে কষ্ট হয়। এ জন্য লিফটের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দীন দলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মাষ্টার, ডেপুটি কমান্ডার বদর উদ্দীনসহ উপজেলার সকল বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।