চুয়াডাঙ্গায় মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি জখম!

28

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে তুহিন ইসলাম রানা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ফেরিঘাট সড়কের জলযোগ হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা জখম রানাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে। জখম তুহিন ইসলাম রানা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জ্বিনতলা মল্লিকপাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ রানার সঙ্গে বড় বাজার মাছ ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক লিপ্টনের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ফেরিঘাট সড়কের জলযোগ হোটেলের সামনে রানার সঙ্গে হাবিবুর রহমান ও লিপ্টনেরসহ মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে রানা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা জখম রানাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রানাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে। পরে জখম রানার পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রানাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বড় বাজার মাছ ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রানা, রাব্বি ও দয়াল এরা তিনজন প্রায়ই বড় বাজার মাছ ব্যবসায়ীদের থেকে পাঁচশ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে থাকে। এই নিয়ে মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রানা, রাব্বি ও দয়ালদের বিরোধ চলে আসছিল। আজও (গতকাল বুধবার) সকালেও তাঁরা বাজারে এসে টাকা চাইতে থকে। টাকা না দিতে চাইলে তাঁরা মাছ ব্যবসায়ীদেরকে দা ও চাইনিজ কুড়ালের ভয় দেখায় ও গালিগালাজ করে। আমরা রানাকে থামাতে গেলে সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। রানাকে প্রতিহত করার সময় তাঁর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মূলত মাছ ব্যবাসায়ীদের নিকট চাঁদা চাওয়া ও তাঁদেরকে গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করতে যেয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।’
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এ এইচ এম লুৎফুল কবির বলেন, ফেরিঘাট সড়কে বেলা ১১টার দিকে একটি মারামারির ঘটনায় তুহিন ইসলাম রানা নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় পৌর কৃষক লীগের সভাপতি ও নিচের বাজার ক্ষুদ্র মৎসজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুুর রহমান রাকু তাঁর সাক্ষরিত এক পত্রে জানান, ১৯৮২ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী নিচের বাজার ক্ষুদ্র মৎসজীবী সমিতির অফিসটির ওপর গুটিকয়েক মাছ ব্যবসায়ীর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তাঁরা নিজেদের ওই সমিতির নেতা দাবি করে অফিসের জায়গা ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এ বিষয়টি জানার পর গত ২২ মার্চ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ও পৌর মেয়র বরাবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করা হয়। সে আবেদনপত্রের প্রেক্ষিতে বিক্রিত ওই জায়াগার ওপর দোকানঘর নির্মাণাধীন কাজ বন্ধের ঘোষণা দেয় পৌরসভা। এরপর থেকেই রানা ও রাব্বিকে টার্গেটে রাখে সমিতির নেতা পরিচয়দানকারী লিপ্টন ও হাবিবুর। সেই রেশ ধরে গত পরশু মঙ্গলবার রানা ও রাব্বির বাড়িতেও হামলা চালায় তারা। এরপর গতকাল সকালে তাঁরা রানাকে কুপিয়ে জখম করে।