চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৪ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় বুক জোড়া লাগনো জমজ কন্যা সন্তানের জন্মদিলো এক মা : সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তায় দরিদ্র পিতা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২৪, ২০১৭ ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এম এ মামুন: চুয়াডাঙ্গা শহরের সদর হাসপাতাল রোডের উপশম নার্সিং হোমে জন্ম নিলো বুকের সাথে বুক জোড়া লাগনো জমজ কন্যা সন্তান । এই জোড়া লাগানোর কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন চুয়াডাঙ্গার রেল কলোনীর অটোচালক দরিদ্র মামুন হোসেন অনিকের স্ত্রী সাথী আক্তার চিন্তা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপশম নার্সিং হোমে সিজারের মাধ্যমে এই জোড়া লাগানো জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। চিন্তা জোড়ালাগা কন্যা সন্তান প্রসব করার পর থেকেই চরম চিন্তায় তার সময় পার হচ্ছে। তার পরেও তিনি আল্লাহর উপর জমজ সন্তানদের ভবিসৎ ছেড়ে দিয়েছেন। জোড়ালাগা কন্যা সন্তান দুটি ও মা চিন্তাসহ তিনজনই সুস্থ্যই আছে।
এদিকে জোড়া সন্তান হওয়ার খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে উপশম নার্সিং হোমে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। সবাই এক নজর দেখার পর সন্তান দুটির চিকিৎসা এবং হতরিদ্রের ঘরে এমন জোড়ালাগা সন্তান একটি যা তাদের বাঁচানো এবং যদি পৃথক করতে হয় তাহলে তার বাবা মা কি ভাবে এর চিকিৎসার ব্যয় বহণ করবে।
মা চিন্তা ও বাবা অনিক জোড়া লাগা সন্তানদের ভবিষৎ নিয়ে পড়েছে চরম দুঃশ্চিন্তায়। তাদের নুন আনতে পান্থা ফুরায় সংসারে চার বছরের এক কন্যা সন্তানের পর দ্বিতীয়বার ভেবেছিল  পুত্র সন্তান হবে। কিন্ত সন্তান ধারণের কয়েক মাসের মাথায় ডা. চৈতীর কাছে আল্ট্রাসনো করালে তিনি জানান চিন্তার এবারও  জমজ কন্যা সন্তান হবে। শেষ মে সময় গড়াই
গতকাল চিন্তার প্রসব ব্যাথা উঠলে চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নাসিং হোমের গাইনি  চিকিৎসক ডা. জিন্নাতুল আরার পরামর্শে চিন্তার সিজারের পরামর্শ দেয়। সে অনুসারে রাত সাতটায় চিন্তার অপারেশন শুরু হয় । সাড়ে সাতটার দিকে অপারেশন সাকসেসফুল কালে  সনাতারে অবস্তান দেখে ডাক্তার জিন্নাতুল আরা ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অবাক হয়। দেখা যায় চিন্তার গর্বে দুটি কন্যা সন্তান তবে, তারা একে অপরের বুক ও পেটের সাথে জোড়া লাগানো রয়েছে। ডাক্তার জিন্তাতুল আরা এবং ডাক্তার শফিকুল মা ও দুই সন্তানের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সাথে অপারেশন সমাপ্ত করে। বর্তমানে মা ও দুই জোড়ালাগা সন্তান সুস্থ্যই রয়েছে। তবে মানসিক অসুস্থ্য রয়েছে মা চিন্তা ও বাবা অনিক ।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা  উপশম নার্সিং হোমের গাইনি ডাক্তার জিন্নাতুল আরা জানান, একজন সামান্য অটো চালকের ঘরে আল্লঅহ এমন অস¦াভাবিক জোড়ালাগা দুটি কন্যা সন্তান দিয়েছে যা তাদের জন্য গভীর চিন্তার বিষয়। কারণ যদিও শিশদুটি ও তাদের মা চিন্তা সুস্থ্য রয়েছে তার পরেও এমন শিশুদের বুকের সাথে জোড়ালাগা ছাড়া তাদের আভ্যন্তরিন কনো সমস্যা আছে কিনা তার জন্য তাদেরকে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিশেষ করে ঢাকা বা রাজশাহীতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে।
তিনি আরো বলেন তবে এখনই এদের জোড়ালাগা থেকে পৃথক করা যাবেনা কমপক্ষে এক আধ বছর বয়স হলেই তাদের অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে তেমন বিশেজ্ঞ সার্জন দ্ধারা। তবে সে ক্ষেত্রে অনেক টাকার বিষয় যা এই দরিদ্র মাতা পিতার পক্ষে সম্ভব হবে না এক্ষেত্রে বিত্তবান মানুষকে তার সাহায্যে আসলে তাদের জন্য আর্শিবাদ হবে। তিনি আরো বলেন আমি আমার নার্সিক হোমের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি যতটা তাখে ছাড় দিয়ে সুস্থ্য রাখা যায় সেদিকে কড়া নজর রয়েছে। জোড়ালাগা সন্তানের পিতা মামুন হোসেন অনিক বিত্তবান ব্যাক্তি ও সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে । তিনি বলেন তার সন্তানের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য ছাড়া তার পক্ষে তাদের বাঁচানো বা পৃথক করা আদৌ সম্ভব না।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।