চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২০ আগস্ট ২০১৭

চুয়াডাঙ্গায় বাসাবাড়ি থেকে চুরি হওয়ার একমাস পর ধাতব মুদ্রা উদ্ধার : আটক ২:ধর্মভীরু চোরের ভাগ্য চকচকালো স্বর্ণ ও রোপ্যের কয়েনে!

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২০, ২০১৭ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল চুরি করতে গিয়ে আলমারিতে থাকা কোরআন শরীফ’এ চুমু খেতেই কপাল খুললো চোরের। একি এ তো কোরআন শরীফ না, একটা কাঠের বাক্স! তার ভিতরে কী যেন নড়ছে। বাক্সটি খুলতেই চকচকিয়ে বেরিয়ে এলো শত বছরের পুরানো ধাতব মুদ্রা, স্বর্ন ও রোপ্য কয়েন। চোখের সামনে লাখ টাকার কয়েন দেখে লোভ কী করে সামলায়। মোবাইল আর কয়েন ভর্তি বাক্স নিয়ে চম্পট। পরদিন মোবাইলটি নিজের কাছে রেখে কয়েকটি কয়েন বিক্রি করে চুয়াডাঙ্গা সদরের ডিঙ্গেদহ বাজারের মাতৃ জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী চঞ্চল কর্মকারের কাছে। ইতিমধ্যে তিনি ওই ৩টি স্বর্ণের কয়েন (ওজন-৩.৫ ভরি) ও ১১টি রুপার কয়েন (ওজন-১১ভরি) গলিয়ে গহণা তৈরী করে বিক্রিও করেছেন। সব মিলিয়ে চোরচক্রটি ১লক্ষ ৬৬হাজার ৮০০ টাকা বেমালুম হজম করে ফেলেছেন। মোবাইল চুরি করতে গিয়ে ভাগ্য চকচকিয়ে ওঠা ওই চোরের নাম মেহেদী হাসান চঞ্চল (২২)। সে চুয়াডাঙ্গা ফার্মপাড়ার কবির হাসান কারণের ছেলে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি! এ ঘটনার একমাস যেতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চোর চঞ্চলকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওহিদুল ইসলাম। এ সময় তার বাড়ি থেকে গ্যালাক্সি এস-৫ মোবাইল ও চুরি করা সেই কয়েন গুলোর মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের ৪৯টি রোপার কয়েন উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাকী কয়েনগুলো ডিঙ্গেদহ বাজারের চঞ্চল কর্মকারের কাছে বিক্রি করেছে সে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করা হয় চঞ্চল কর্মকারকে। অভিযান চালিয়ে তার দোকানের সিন্দুক থেকে ৫টি রোপার কয়েন উদ্ধার হয়। এ ছাড়া ৩টি স্বর্ণের কয়েন ও ১১টি রোপার কয়েন গলিয়ে গহণা বানিয়ে বিক্রি করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। তিনি আরো জানান, গত ১৫ জুলাই দিনগত রাতে চুয়াডাঙ্গা ঈদগা পাড়ার জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ-প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি স্যামসাং এস-৫ মোবাইল ও তাঁর দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত পুরানো আমলের ৬৫টি স্বর্ণ এবং রোপ্য কয়েনসহ একটি বাক্স চুরি হয়। এ ঘটনায় পরদিন থানায় হাজির হয়ে একটি চুরি মামলা দায়ের করেন নুরুল ইসলাম। এ ছাড়াও গতকাল ২৪ঘন্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি থানা পুলিশের অভিযানে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও চোরাচালানীসহ বিভিন্ন মামলায় ২৭জনকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে দেড়শ গ্রাম গাঁজা ও ১৭৫ বোতল ফেনসিডিলি উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহা. কলিমুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।