চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় প্রতারক চক্রের সদস্য নাঈম শ্রীঘরে!

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৩, ২০২০ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

ভুয়া অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণা

গোপনে তথ্য দিলেও সর্বোচ্চ সেবা দেবে পুলিশ, ওসি আবু জিহাদ
সোহেল রানা ডালিম:
চুয়াডাঙ্গায় এডিট করা ভূয়া অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবারকে জিম্মি করে কয়েক দফা চাঁদাবাজির ঘটনায় নাঈম নামের এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গতকাল সোমবার সকালে নাঈম হাসান (৩০) নামের প্রতারকচক্রের এই সদস্যকে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। আটক নাঈম হাসান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের একটি মেয়ের ভুয়া অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবির প্রকাশের ভয় দেখিয়ে চাদাঁবাজি করে একটি প্রতারকচক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই মেয়ের পিতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৬ অক্টোবর তার মেয়ের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। মোবাইল ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তির কাছে তাঁর মেয়ের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি আছে বলে জানায়। এসময় ছবি প্রকাশ করা হবে না, যদি পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে এই চক্র চাঁদাদাবি করে। ভুক্তভোগী ওই মেয়ের পিতা মানসম্মানের কথা ভেবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া পরে ওই চক্র বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে আরও দু-দফা পাঁচ হাজার ও দুই হাজার চল্লিশ টাকা বিকাশে নেয়। তিনবারে মোট ১২ হাজার ৪০ টাকা নেওয়ার পরে ওই প্রতারকচক্রটি ভুক্তভোগী ওই মেয়ের পিতার কাছে আরও ১ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। এসময় ভুক্তভোগী ওই মেয়ের পিতা মানসম্মানের ভয়ে টাকা দিতে রাজি হয়ে যায়। পরে গত ৩১ অক্টোবর দাবিকৃত ১ লাখ টাকা নিতে আসলে ভুক্তভোগী মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে প্রতারকচক্রের সবাই পালিয়ে যায়। এসময় প্রতারকচক্রের সদস্য নাঈম হাসানকে এই মেয়েটি চিনে ফেলে এবং বিষয়টি পুলিশকে তারা জানায়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের সদস্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাঈম হাসানকে আটক করে। গতকাল সোমবার প্রতারক নাঈমকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হাসান জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করাসহ ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন মানুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ডাউনলোড করে তা এডিট করে প্রতারণার ফাঁদ পাতার কথা জানায় প্রতারক নাঈম। তারা প্রথমে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে তার আশপাশের এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের উঠতি বয়সি মেয়েদের ছবি সংগ্রহ করতো। এরপর ওই ছবির গলা আর মুখের অংশ নিয়ে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও ক্লিপে জুড়ে দিতো। পরে তারা টার্গেটকৃত ওই মেয়েদের মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে কৌশলে তাদের ফোন দিয়ে বলতো, আপনার একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পাওয়া গিয়েছে, এখন এটা কি করবো। বর্তমানে যে সকল উঠতি বয়সি মেয়েরা বন্ধুদের সাথে আশেপাশে ঘুরতে যায় তারা এ ধরণের ফোন পেয়ে প্রথমেই ভয় পেয়ে যায়। তাদের কাছে প্রতারণা করাটাও সহজ ছিলো এই প্রতারকদের। আবার যে সকল মেয়েরা এ ধরনের ফোন পেয়ে প্রতিবাদ করা শুরু করনে, তখন প্রতারকরা সরলভাবে স্বীকার করে নেন এটা গলা কাটা ছবি বা ভিডিও ক্লিপ। অন্য কেও এডিট করে নেটে ছেড়েছে। টাকা না দিলে তারাও এডিট করা এই ছবিটিই আবারও নেটে ছেড়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখাতো। একপ্রকার বাধ্য হয়েই প্রতারক চক্রটিকে টাকা দিতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরীবারগুলোকে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, ‘গত কয়েক মাস পূর্বে মেহেরপুর থেকে একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। আর ওই হারানো ফোনটি হাতে পেয়ে নাঈম হাসান প্রতারণার ফাঁদ পাততে শুরু করেন। পরে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় সদর থানা-পুলিশ।’
চাঁদাবাজ নাঈম হাসানকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা অনেক পরিবার তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে পুলিশ জানায় না। ফলে এই চক্রগুলো পরবর্তীতে বড় বড় অপরাধমূলক কর্মকা- করে বসে। যেটা মোটেও ঠিক না।’ এ সকল ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্দেশ্যে ওসি বলেন, ‘গোপনে হলেও আপনারা পুলিশকে তথ্য দিন। আপনার সামাজিক মর্যাদার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।’

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।