চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৯ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে দুই গৃহবধূর আত্মহত্যা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৯, ২০২২ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার দর্শনা থানার নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের খাড়াগোদা বাজার ও তিতুদহ ইউনিয়নের তিতুদহ গ্রামে পৃথক দুটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যাকারী দুই গৃহবধূ হলেন- খাড়াগোদা বাজার পাড়ার শ্রী কৃষ্ণার স্ত্রী বন্যা রানী (২৩) ও তিতুদহ গ্রামের তোফায়েল আহম্মেদের স্ত্রী কবিতা খাতুন (২০)। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে লাশ দুটিকে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, সাংসারিক বিরোধের জেরে গতকাল সকাল আটটার দিকে স্বামী শ্রী কৃষ্ণর ওপর অভিমান করে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বন্যা রানী। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে বন্যার ঝুলন্ত লাশ নিচে নামায়। খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এদিকে, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের মাঝেরপাড়ায় নিজ ঘড়ে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন কবিতা খাতুন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কবিতা খাতুনের ভাই রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ‘পাঁচ মাস পূর্বে আমার বোনের সঙ্গে তোফায়েলের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে আমার বোনের সঙ্গে তোফায়েলসহ শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের ঝগড়া-বিবাদ লেগেয় থাকত। চাকরির জন্য টাকা চেয়ে তোফায়েল আমার বোনকে চাপ দিতো। ওদের কারণেই আমার বোন আত্মহত্যা করেছে।’

কবিতার শাশুড়ী কাকলি বেগম বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে মাঠে ঘাস কাটতে গেলে আমি ও কবিতা খড়ি চলা করছিলাম। সেসময় কাকলি কিছু না বলেই তার ঘরে চলে যায়। খড়ি রাখার জন্য তাকে ডাকলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে যেয়ে দেখি দরজা বন্ধ। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকালে তাকে গলায় ওঁড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে কবিতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। এসময় আমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে কবিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নূর জাহান রুমি বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে কবিতা নামের এক নারীকে জরুরি বিভাগে নেয় পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা গয়ায় ফাঁস দেওয়ার কথা আমাদের জানায়নি। পরে রোগীর গলায় দাগ দেখে সন্দেহ হলে তারা গলায় ফাঁস দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। এখানে নেওয়ার পূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে।’

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবির বলেন, ‘দর্শনা থানাধীন খাড়াগোদা বাজার পাড়া ও তিতুদহে দুই গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণে নির্ণয়ে দুটি লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। তবে এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।