চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১২ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১২, ২০২২ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্য অবহেলায় এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মালিক খোকন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশু চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের ওয়াশকুরুনী অরফে পলাশের সন্তান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক ঘণ্টা বয়সের একটি শিশুকে ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট ও অপুষ্টজনিত কারণে গত বুধবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স সুফিয়া আক্তার ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্টার্নি তিনজন ছাত্রী গতকাল সন্ধ্যায় সকল শিশু রোগীদের নির্ধারিত ওষুধ ও ইনজেকশন দিচ্ছিলেন। এসময় একজন ইন্টার্নি ছাত্রী ওই শিশুর শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়।

নবজাতক শিশুর পিতা ওয়াশকুরুনী বলেন, ‘গত বুধবার বিকেল সাড়ে ছয়টার সিজারিয়ান পদ্ধতিতে আমার স্ত্রী একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। শিশুটি একটু অসুস্থ থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে জন্মের এক ঘণ্টা পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে শিশুটির চিকিৎসা সদর হাসপাতালে চলছিল। কিন্তু আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় ওয়ার্ডের নার্স ও ইন্টার্নি নার্সরা সকল বাঁচ্চাদের ওষুষ ও ইনজেকশন দিচ্ছিল। এসময় ওয়ার্ডের নার্স আমার ছেলেকে প্রথম ইনজেকশন দেয় ও আরো একটি ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ইন্টার্নি নার্সকে বলে। ওই ইন্টার্নি নার্স আমার ছেলেকে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিট পরেই তার মৃত্যু হয়। ইন্টার্নি নার্স ইনজেকশন না দিয়ে দায়িত্বরত নার্স যদি ঠিকভাবে ইনজেকশন দিতো, তাহলে আমার সন্তানের কিছু হতো না।’

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘শিশুর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সন্ধ্যায় তার শরীরে দুটি ইনজেকশন দিতে হতো। আমি প্রথম ইনজেকশনটি শিশুটির শরীরে প্রয়োগ করি। অপর একটি ইনজেকশন ইন্টার্নি ছাত্রীকে রেডি করতে বলি। কিন্তু ওই ছাত্রী ইনজেকশন রেডি করে শিশুটির শরীরে প্রয়োগ করে। তবে সে নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রী হওয়ায় কীভাবে শিশুটির ইনজেকশন দিতে হবে, তা আগে থেকেই জানত এবং সঠিকভাবেই শিশুটির শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করে। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মালিক খোকন বলেন, ‘শিশুটির ওজন কম ছিল, এছাড়াও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। সন্ধ্যায় শিশুটির যে দুটি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য প্রেসক্রিপশন করা ছিল, সে ইনজেকশন দুটিই দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অপুষ্ট ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পেরে আমি হাসপাতালে যেয়ে রোগীর স্বজন ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলি। শিশুটি ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে অসুস্থ থাকায় ক্লিনিক থেকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগীর স্বজনরা স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কোনো অভিযোগ না করায় শিশুটির লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।