চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৬ ও মেহেরপুরে ৭ জন আক্রান্ত

11

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু, আরও খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কা
সমীকরণ প্রতিবেদক:
মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৪৪৭ জনে। এছাড়া করোনাভাইরাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬২৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জনে। করোনাভাইরাস নিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ২৫৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ দিনে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে আক্রান্তের হার ৬০০-এর বেশি।
দেশে দীর্ঘদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এরপর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দ্রুত সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে যেমন উদাসীনতা রয়েছে, তেমনি স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারি জোর চেষ্টাও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। আবার বিধিনিষেধ তুলে নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনাগুলো না মানলে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে।
গত ২৯ মার্চ থেকে প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তিন দিন ধরে নতুন রোগী ৭ হাজারের বেশি। ৩০ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ দৈনিক মৃত্যু ৫০-এর ওপরে। এর আগে এই মহামারির মধ্যে সব মিলিয়ে সাত দিন (একটানা নয়, বিচ্ছিন্নভাবে) ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে সংক্রমণের প্রথম ঢেউ যখন চূড়ায় ছিল, তখন প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা হতো। এখন ২৫ থেকে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার কারণেই শুধু নতুন রোগী বাড়ছে। কেননা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হারও এখন ২০ শতাংশের ওপরে। গত বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে তা ছিল নিম্নমুখী। গত এক সপ্তাহ শনাক্তের হার আবার ২০ শতাংশের ওপরে। এই হার বলছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাদেশ অনেক দূরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে রোগী শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহের বেশি ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যুর খবর জানানো হয় ১৮ মার্চ।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ছয় জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ জনে। গতকাল বুধবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার পাঁচজন ও জীবননগর উপজেলার একজন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৩ জন ও নারী ৩ জন। বয়স ২৬ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত। গতকাল জেলা থেকে নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬২৫ জন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৩১টি নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনারসহ ২০টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁঁছায়। এর মধ্যে ৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ১৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৩৩টি, আলমডাঙ্গা থেকে ৪টি, দামুড়হুদা থেকে ২টি ও জীবননগর থেকে ২টি নমুনাসহ মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৮০৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৫৩৯টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭৭৩টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৩২৪টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৯৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৩জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ২ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে ৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ৪ জন ও গাংনী উপজেলার ৩ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩১ জন, গাংনী উপজেলার ১৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ২ জন।