চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৭ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড : মেহেরপুরে বেড়েছে শীতজনিত রোগী

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৭, ২০১৮ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা : ঘন কুয়াশায় ফসলেও ব্যাপক ক্ষতি
প্রচন্ড শীতে দর্শনার এক শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু : বিপাকে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষরা
মাসুদ রানা/ফেরদৌস ওয়াহিদ: কয়েক দিন ধরে সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এর প্রভাবটা বেশি পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অসহনীয় শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতার সন্ধান করছেন সাধারণ মানুষ। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। প্রবল শীতের সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশার তীব্রতা থাকায় ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় তাপমাত্রাও প্রতিদিনই কমছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গাতে রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, মাঘ মাস আসার আগেই মেহেরপুরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা কমেছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড শীতে সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে শীতের প্রকোপ বাড়ায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গতকালের চেয়ে ১০ শিশু ও ২০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া প্রচন্ড শীতে আলমডাঙ্গার জোড়গাছা গ্রামের তাহাজ উদ্দিন (৬৬) এর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দর্শনার এক শিশু শীতজনিত রোগে সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে গতরাতে তার মৃত্যু হয়। তাহাজ উদ্দিন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের মৃত সদর উদ্দিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গতকালই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরপর কয়েক দিন চুয়াডাঙ্গায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকায় তীব্র শীতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তাহাজ উদ্দিনের পারিবারিক সুত্র এই প্রতিবেদককে জানায়। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা গ্রামের মিজানুরের ১ দিন বয়সী শিশু বাবু শীতজনিত রোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে তীব্র শীতের কারনে তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকালে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার। এদিন সকাল থেকেই দেখা ছিল না সূর্যের। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও তা উষ্ণতা ছড়ানোর মতো ছিল না। এর সঙ্গে উত্তরের বাতাস কেবল দুর্ভোগ বাড়িয়েছে মানুষের। ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাটে চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছেন দিনমজুরসহ শ্রমজীবীরা। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে তাদের কাজ করতে যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি এমন শীতে কাজও কমে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। দৈনন্দিন জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে তেমন একটা যাচ্ছেন না কেউই। গত কয়েকদিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড হচ্ছে বলে তাদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছামাদুল হক সময়ের সমীকরণকে জানান, শনিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারাদেশের মধ্যেই সর্বনিম্ন। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গার চিত্র একইরকম।
এদিকে, প্রবল শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার তীব্রতা থাকায় ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ধানের বীজতলা, সরিষা ও তুলা। কৃষকরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের এমন ক্ষতি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ মৌসুমে প্রায় ৩৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার চারায় লালচে রঙ চলে এসেছে। ঘন কুয়াশায় সরিষা ফুলও নষ্ট হচ্ছে। সরিষার ফলনে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আবহাওয়ার কারণে জেলায় সরিষা চাষের পরিমাণ কমেছে বলেও জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। তুলা উন্নয়ন বোর্ডও জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে নষ্ট হচ্ছে তুলার ফলন। তুলার ফল পেকে ফাঁটতে শুরু করেছে। সেই ফলের ভেতরে কুয়াশা ঢুকে তা কালচে হতে শুরু করেছে। ফলে তুলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কৃষকরা অপুষ্ট ফল তুলতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপরদিকে, তাপমাত্রা কমায় মেহেরপুরের হাসপাতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, ব্রঙ্কাইটস ও ডাইরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বড়রা আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে। বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। শয্যা না পেয়ে অনেকের ঠাঁই হয়েছে বারান্দার মেঝেতে। মেহেরপুর গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ জানান, কয়েকদিন আগে তার এক বছর বয়সী শিশু ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। শয্যা না পাওয়ায় বারান্দায় মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় অন্যরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও রয়েছে। একই অবস্থা মা ও শিশু ওয়ার্ডে।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু মোহাম্মদ রাজু জানান, শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে শিশুদের গরম স্থানে রাখতে হবে, পাশপাশি গরম কাপড়ে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও সমস্যা দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।