চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় টানা বৃষ্টিপাতে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড

তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল ও রাস্তাঘাট, পানিতে ভাসছে মাঠের আউশ ধান
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: চুয়াডাঙ্গায় টানা বৃষ্টিপাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার নিম্নাঞ্চল ও রাস্তাঘাট। গত ৩ দিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। এখনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার পর থেকে থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়ে যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সে কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠেছে। ভারী বর্ষণের কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম গতি হারিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই সঠিক সময়ে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেনা। শ্রমজীবী দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ কাজ পাচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর পৌর এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাড়া-মহল্লার রাস্তা কোমর ও হাঁটু পানি নিচে তলিয়ে গেছে। সে কারণে ইজিবাইক, রিকশা, মোটরযান চলাচল করতে পারছে না। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। কবে নাগাদ রাস্তা ও আবাসিক এলাকা থেকে পানি বের হবে, তা পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জীবননগর বাসস্ট্যান্ডপাড়ার বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, জমে থাকা পানি সরাতে পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থায় গ্রহণ করেনি। টানা বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর ড্রেন উপচে ময়লা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা পৌর এলাকা। ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ার বাসিন্দা সংবাদকর্মী উজ্জ্বল মাসুদ জানান, টানা বর্ষণে জমে থাকা পানির ক্রানে ওই এলাকার রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের গুরুত্বহীনতার কারণে এলাকার আনাচেকানাচে পানি জমে বেশ সমস্যা সৃষ্টি করছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক বলেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে পৌরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিছু অসচেতন পৌরবাসীর কারণে ড্রেন পরিস্কার রাখা যাচ্ছে না। তারাই ড্রেনে তাদের ব্যবহৃত এটাসেটা ফেলে সেটা পানি নিস্কাশনের অযোগ্য করে রেখেছে। তবে আমরা পানি নিস্কাশনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করা যায় এর দ্রুত সমাধান হবে।

শ্রমজীবী রিকাত আলী জানায়, বৃষ্টির জন্য কেউ তাকে কাজে নিচ্ছে না। কাজ না পেয়ে ক’দিন তাকে ফিরে যেতে হচ্ছে। বাজার করার টাকা জোগাড় করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটছে তার।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে মাঠের ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মাঠে মাঠে পাকা আউশ ধান ডুবে গেছে বৃষ্টিতে। অনেক কৃষক তার স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে পারছে না। দর্শনা জয়নগরের কৃষক পিণ্টু মিয়া বলেন, ২ বিঘা ধান ছিল। মেশিন দিয়ে কেটে ৫ কাঠা ধান ঘরে তুলেছি। বাকি দেড় বিঘা পানিতে ডুবে আছে। কল বেরিয়ে গেছে। তার মতো অনেকেই ধান কাটতে পারেনি। ধান সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ সামাদুল হক জানান, সোমবার রাত ২টা ১০ মিনিট থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়ে যা বুধবারও অব্যাহত রয়েছে। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।