চুয়াডাঙ্গায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

138

নিজস্ব প্রদিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার মাস্টারপাড়ায় সাংসারিক কলহের জেরে কনিকা রানি (২৫) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড় বাজার মাস্টারপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহত কনিকা রানি চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার মাস্টারপাড়ার অর্জন কুমার শাহার স্ত্রী ও কোটচাঁদপুর বৈঠাপাড়ার ভরত গড়াইয়ের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় কনিকার সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। এর পূর্বেও কনিকা দুইবার আত্মহত্যার অপচেষ্টা করেছেন। বুধবার সকালে কনিকার স্বামী বড় বাজারে নিজের মুদি দোকানে চলে যান। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কনিকার সঙ্গে তাঁর শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের বাগবিতণ্ডা বাঁধে। একপর্যায়ে কনিকা নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে সিলিংয়ের সঙ্গে গলাই শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে দরজা ভেঙে কনিকার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে কনিকার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ময়নাতদন্ত শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা বলেই জানতে পেরেছি। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হবে।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে গলাই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার মামলা নম্বর ১৮। আত্মহত্যা ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাপেক্ষে আইনগতব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে কনিকার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কনিকার পিতা ও শ্বশুর বাড়ির দুই পরিবারের মতামতে বুধবার রাতেই চুয়াডাঙ্গা শ্মশানে কনিকার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।