চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় কাণ্ডজ্ঞানহীন এক করোনা রোগীর কাণ্ড : শতাধিক বাড়ি লকডাউন

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২১, ২০২০ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর গ্রামে শহীদ উদ্দিন (৬৫) নামের এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ গ্রামের শতাধিক বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি তথ্য গোপন করে গত তিন দিন নিজ গ্রামে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে গ্রামবাসী। কাণ্ডজ্ঞানহীন এ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গোটা জেলাজুড়েই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত শহীদ উদ্দিনের ছেলে প্যারামেডিকেল চিকিৎসক রাসেল আহমেদ (অভি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তাঁর বাবা করোনা আক্রান্তের কথা স্বীকার করে লেখেন, ‘সোমবার বিকেলেই আইইডিসিআর থেকে আমাদেরকে নিশ্চিত করা হয়েছে বিষয়টি’। তিনি লেখেন, ‘ঢাকাতে কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাবার ঠাণ্ডা, সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত হন। করোনা শনাক্তের জন্য অনেক চেষ্টার পর ১৫ এপ্রিল ঢাকার আইইডিসিআরে বাবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বাবা কিছুটা সুস্থ হলে দুই দিন পর (১৮ এপ্রিল) আমরা নিজ গ্রামে ফিরে আসি।’ তাঁর দাবি, সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার আইইডিসিআর থেকে ফোন করে আমার বাবা করোনা পজেটিভ জানানো হয়। ফেসবুক বার্তায় তিনি উত্তেজিত গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ঢাকা থেকে আসার পর তাঁর বাবাকে তাঁরা নিজ বাড়িতেই রেখেছিলেন। কঠিন সংকটে সবাইকে সহমর্মিতা নিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গোটা বিষয়টি আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার গোপন করেছেন। গত তিন দিন ধরে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজ গ্রামে সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে অবাধে মিশেছেন, চলাফেরা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে জনরোস এড়াতে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসক ছেলে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান জানান, ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ টিমকে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেবে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ থাকেন, তাহলে তাঁকে নিজ বাড়িতেই প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করে চিকিৎসা দেওয়া হবে। আর বেশি অসুস্থ হলে তাঁকে ঢাকাতে রেফার্ড করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির জানান, ‘চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় আমি একটি মেডিকেল টিমকে নিয়ে বেগমপুর গ্রামে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ওই রোগী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ হাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির উপসর্গ প্রত্যক্ষ হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ কর্তৃপক্ষ তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ পাঠায় এবং রোগীকে মুগ্ধা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিছুটা সুস্থ অনুভব করলে সেখানে না যেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। প্রশাসনের সহায়তায় তাঁর বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়েছে। যেহেতু তিনি একজন কিডনি রোগী, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আজ মঙ্গলবার তাঁকে উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য স্কোর্য়াড টিমের মাধ্যমে ঢাকায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
ডা. শামিম কবির আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর পরিবারের সদস্যরা গত ৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা ১৩ এপ্রিল ঢাকার কিডনি হাসপাতালে ভর্তি করান। এখন কিডনি সমস্যায় অসুস্থ হওয়ার আগে না পরে, সে কোথায় কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানিয়েছেন, প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে আক্রান্তের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাঁকে ঢাকায় পাঠানো পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গাতে গত ১৯ মার্চ ইতালি ফেরত এক যুবক প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৫ দিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।