চুয়াডাঙ্গায় এক দিনে রেকর্ড সংখ্যক ৭৬ জন আক্রান্ত, দুজনের মৃত্যু

85

২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুরে দুজনসহ সারা দেশে করোনায় প্রাণ গেল ৫৪ জনের, শনাক্ত ৩৮৮৩
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ হাজার ৩৯৯ জনে। একই সময়ে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭০ জনে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৮৮২টি। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ১৮.৫৯ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯টি। মোট পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫৪ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগেরই ১৫ জন। এছাড়া ঢাকায় ১২, রাজশাহীতে ১২, খুলনায় ৮, বরিশালে ৪, সিলেটে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এদের মধ্যে বাসায় মারা গেছেন ২ জন। বাকিরা সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৩ হাজার ৩৯৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৬২৩ জন এবং নারী ৩ হাজার ৭৭৬ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৬ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৫, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৭, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৫ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ১ জন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় সব রেকর্ড ভেঙে এবার এক দিনে ৭৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৬ জনের নমুনার ফলাফল পজেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৯.৩৮ শতাংশ। এ বছরে এর আগে গত ১৬ জুন বুধবার জেলায় এক দিনে ৫৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। যা ছিল এ বছরের সর্বোচ্চ সংখক করোনা শনাক্ত। ১২৮ টি নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিলো ৪৬.০৯ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৭৬ জনসহ জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৩ জনে। গতকাল রাত ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস জীবননগরের আরও দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ জনে। এছাড়া গতকাল মেহেরপুরে করোনাক্রান্তে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে জীবননগর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আগেরদিন বুধবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত অনন্ত হালদার নামের অপর এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত অনন্ত হালদার জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের মৃত কার্তিক হালদারের ছেলে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৭ জনের। এর মধ্যে জেলার হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের। অন্য ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
নতুন আক্রন্ত ৭৬ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৩৫ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৪ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৩৫ জন ও জীবননগর উপজেলার ২ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৫২৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন, আলমডাঙ্গার ৪১৬ জন, দামুড়হুদায় ৬১৭ জন ও জীবননগরে ২৯০ জন।
গত বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চার উপজেলা থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য ১৪৮টি নমুনা ও বুধবার ১৩১টি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত মোট ১৯৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এর মধ্যে ৭৬ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে, বাকী ১১৭টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ।
এদিকে গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেনি। তবে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রেরণকৃত ৪৬৬টি নমুনার ফলাফল পেন্ডিং রয়েছে।
গতকাল সদর উপজেলা থেকে ২ জন ও আলমডাঙ্গা থেকে ৫জনকে সুস্থতার সনদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৩৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার জন, আলমডাঙ্গার ৩৫০, দামুড়হুদার ৩৯১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫০৮জন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১১ হাজার ৬৪৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১১ হাজার ১৮২টি, পজিটিভ ২ হাজার ৫২৩ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৫০৮ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭১ জন, আলমডাঙ্গায় ৪৮ জন, দামুড়হুদায় ২০২ জন ও জীবননগরে ৮৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৪৬০ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫১ জন, আলমডাঙ্গায় ৪১ জন, দামুড়হুদায় ১৮৪ জন ও জীবননগরে ৮৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১৯ জন, আলমডাঙ্গার ৬ জন, দামুড়হুদার ১৬ জন ও জীবননগরের ৩ জন জনসহ মোট ৪৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৭ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ২১ জন ও জীবননগরে ৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৪ জন।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন- মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিজলবাড়ীয়া গ্রামের বিচার উদ্দীন (৬৫) ও মেহেরপুর শহরের তাহের ক্লিনিক পাড়ার ছাইমন হোসেন (৬১)।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার মেহেরপুরে নতুন করে আরও ১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে মেহেরপুরে ৭০টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জেলা সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ১৪ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্য ৫৬টি নমুনার পলাফল নেগেটিভ আসে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিরি আরও জানান, গতকাল নতুন শনাক্ত ১৪ জনের মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার ২ জন, গাংনী উপজেলার ৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৫ জন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতাল আইসোলেশনে আছে ২৪৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭০ জন, গাংনী ১০৬ জন ও মুজিবনগরে ৭২ জন।