চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৩ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় উপসর্গ নিয়ে এবার বৃদ্ধর মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৩, ২০২১ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশে করোনায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৯৮৮
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৮৮ জন। গতকাল বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ২৯৩ জন, মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৪ জনের। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ২৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে।
এ বছরের মার্চ থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে ১৯ এপ্রিলের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ওই দিনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এই বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর মধ্যে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ‘লকডাউন’ ঢিলেঢালা হয়ে পড়ে ।
ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা ও যাতায়াতে বিপুল লোকসমাগম দেখে জনস্বাস্থ্যবিদেরা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করেছিল, ঈদের পর সংক্রমণ আবার বেড়ে যাবে। এখনো সেভাবে সংক্রমণ না বাড়লেও ঈদের পর থেকে ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা রয়েছে। এদিকে ভারত সীমান্তবর্তী ১৫টি জেলায় রোগী দ্রুত বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, এখনই সতর্ক হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আমজাদ হোসেন (৭০) নামের এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত হয়েছে। নিহত আমজাদ হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মৃত নহর মণ্ডলের ছেলে।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন খোদা বক্স। গতকাল অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। আমজাদ হোসেনের শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ইয়োলো ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার জনে। গতকাল বুধবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৪৫ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ উক্ত নমুনার মধ্যে ৭৫টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৭৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি জীবননগর উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার জনে। মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৩৫ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৬৯ জন, দামুড়হুদায় ৩৮৪ জন ও জীবননগরে ২১২ জন।
এদিকে, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ৯১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে। এনিয়ে জেলা থেকে মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৭০ জনে। গতকাল সদর উপজেলা থেকে আরও একজন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ্য হয়েছে ১ হাজার ৮২০ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৭৩ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪০ জন, দামুড়হুদায় ৩১৫ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ২৭০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৯০৪টি, পজিটিভ ২ হাজার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১১২ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন, আলমডাঙ্গায় ৯ জন, দামুড়হুদায় ৫৪ জন ও জীবননগরে ১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৭৪ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ জন, আলমডাঙ্গায় ৬ জন, দামুড়হুদায় ২৮ জন ও জীবননগরে ১৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার সাতজন, আলমডাঙ্গার দুইজন, দামুড়হুদার ২৫ জন ও জীবননগরের একজন জনসহ মোট ৩৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৬ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। অন্যদিকে, গতকাল করোনা আক্রান্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।