চুয়াডাঙ্গায় আবাসিক হোটেলে নিহত ফরিদা খাতুনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

546

মেলেনি প্রকৃত পরিচয় : আঞ্জুমান মফিদুলে দাফন
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা শহরের আবাসিক হোটেলে নিহত নারী ফরিদা খাতুনের (২২) পরিচয় মেলেনি। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই নাজমুল হক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে কথিত স্বামী আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়। রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের আবাসিক হোটেলে নিহত নারী ফরিদা খাতুনের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। গত ২৬ তারিখ সোমবার সকালে হোটেল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরদিন সকাল পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষক্রীয়া ও শ্বাসরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধারণা করলেও প্রকৃত তথ্য কিছুদিন পর পাওয়া যাবে বলে জানান। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পরিচয় দানকারী ঢাকা গাজীপুরের আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এস আই নাজমুল হক। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কতিথ স্বামী আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কাওকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত ফরিদা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির সময়ের সমীকরণকে জানান, বিষক্রীয়াসহ শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছি। তবে ডিএনএ এবং ভিসেরা রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জনানা তিনি।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক সময়ের সমীকরণকে জানান, আসামীদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে। তবে এটা একটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হওয়ায় নিহত ফরিদা খাতুন ও স্বামী পরিচয় দানকারী ঢাকা গাজিপুরের আনোয়ার হোসেনের হোটেল রেজিস্টার থেকে যে ঠিকানা পাওয়া গেছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। ফলে নিহত ফরিদা খাতুনের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয় তার লাশ। এসময় তিনি এও বলেন, এ ঘটনাই আসামীরা যতটাই চতুরতার আশ্রই নিক না কেনো আইনের হাতে তাদেরকে ধরা পড়তেই হবে।
উল্লেখ্য, ঠিকাদার পরিচয়দানকারী ফরিদা ও আনোয়ার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পাশে আবাসিক হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠে। এসময় তারা ঠিকাদারীর কাজের উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গায় আসার কথা জানায় হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারের কাছে। নিহত ফরিদা খাতুন ঢাকা গাজীপুরের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, হোটেলটির রেজিস্ট্রার খাতা থেকে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। ঘটনার দিন এ ছাড়া আর কোন তথ্য রেজিস্টারে উল্লেখ ছিলো না। কয়েক দিন যাবত এ হোটেলে অবস্থান করাই তাদের আচরনে কোন সন্দেহর বিষয় লক্ষ করতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও তারা হোটেলের আশে পাশে স্বাভাবিকভাবে ঘুরতো বলে জানান, হোটেলটির পাশের লোকজন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ১০টার দিকে নিহতের স্বামী আনোয়ার রুমের দরজায় তালাবদ্ধ করে বাইরে যায়। রাতভর রুমে আসেনি সে। পরদিন সকালেও রুমের দরজা না খুললে হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ এশে বিকল্প চাবি দিয়ে রুমের দরজা খুলে নিহত ফরিদা খাতুনের বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে। এসময় তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। ঘটনাস্থল থেকে হোটেলের মালিক রঞ্জু জোয়ার্দ্দারসহ দুই ম্যানেজার হাপানিয়ার শাহিন ও ছুটিপুরের আনিছকে আটক করে থানা হেফাজতে নেন। স্বামী পরিচয়দানকারী আনোয়ারকে আটক করতে না পারলেও আটক হোটেল মালিক ও দু’জন ম্যানেজারকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে রাত ১১টার পর তাদেরকে ছেড়ে দেয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।