চুয়াডাঙ্গাসহ ২৫ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ ২৮ ডিসেম্বর

122

প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা : ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা বন্ধ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
পৌরসভার নির্বাচনী লড়াই শুরু হচ্ছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এবারে দেশব্যাপী ধাপে ধাপে দলীয় প্রতীকে হবে পৌরসভা নির্বাচন। দেশের ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম ধাপে চুয়াডাঙ্গাসহ ২৫টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এ ধাপে সব পৌরসভায় ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের পর ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর পৌরসভা ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই ৩ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১০ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১১ ডিসেম্বর। আর এই ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরণের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। ওই সময় এক দিনে ভোট হয় ২৩৪টি পৌরসভায়। এদিকে কয়েক দিন থেকেই পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তোড়জোড় চলছে ইসিতে। এ নির্বাচনের ফাইল নির্বাচন কমিশনারদের টেবিলে টেবিলে ঘুরতে চলে গেছে কয়েক দিন। গতকাল সব নির্বাচন কমিশনার পৌরসভা ভোটের ফাইল অনুমোদন দেওয়ার পরে সন্ধ্যায় সেই ফাইল যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার দপ্তরে। এরপরে তিনি গতকাল সন্ধ্যায় তফসিল অনুমোদন করেন। এর পরপরেই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর নির্বাচন ভবনে তফসিল ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। ইসির সিনিয়র সচিব জানিয়েছেন, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে।
এবার ৪-৫ ধাপে সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ২৫টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে। জেলা নির্বাচন অফিসাররা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী পৌরসভা ২৮৬টি। এক্ষেত্রে ২২৪টি পৌরসভায় মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মামলা ও সীমানা জটিলতায় ৪৩ পৌরসভায় নির্বাচন করা আপাতত সম্ভব নয়। কতগুলো ধাপে ভোট হবে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধাপ বলা কঠিন। নানা রকম জটিলতা থাকতে পারে। কোনো পৌরসভার মেয়াদ দুই বছর পর শেষ হবে। তবে ৪-৫ ধাপ লাগবে। চেষ্টা করব যত কম ধাপে করা যায়।’ তিনি জানান, মার্চ, এপ্রিল বা জুনের মধ্যে যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে, সেগুলোর নির্বাচন মার্চের মধ্যে করা হবে। নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় ভাগ করা হয়নি। করোনা প্রকোপের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সচিব বলেন, জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন চায়। এ জন্য ইসি নির্বাচন দিচ্ছে। করোনার মধ্যে পৃথিবীর সব দেশে নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন জীবনের একটা অংশ। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্যতম উপাদান নির্বাচন। এটা বাদ দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলতে পারে না। ভোটের আগে ও পরে ভোটারদের স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
যে ২৫ পৌরসভায় ভোট :
প্রথম ধাপে যেসব পৌরসভায় ভোট হবে সেগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, কুষ্টিয়ার খোকসা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনার চালনা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নেত্রকোনার মদন, মানিকগঞ্জ, ঢাকার ধামরাই, গাজীপুরের শ্রীপুর, সুনাগঞ্জের দিরাই, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড। এ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে ইভিএমে। দেশে পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পৌরসভার ভোট করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ২৪ নভেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩৬ দিন সময় দিয়ে ভোটের তারিখ দেওয়া হয় ৩০ ডিসেম্বর। এক দিনে ভোট হয় ২৩৪টি পৌরসভায়। বাকিগুলোয় মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিবেচনায় ও বিভিন্ন জটিলতা সেরে ভোট হয়।