চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২০ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গার সব সরকারি অফিস ও বাসভবনে বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মতোই!

দেশের ক্রান্তিকালে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২০, ২০২২ ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও কর্মকর্তাদের বাসভবন গুলোতে বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। যেখানে সরকার বিদ্যুৎ অপচয় রোধে নানাবিধি কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সেখানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার প্রতিফলন দেখো যাচ্ছে না বিন্দু মাত্র। জেলাজুড়ে প্রাই সকল প্রতিষ্ঠানেই রাতভর জ্বলছে অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সার্চলাইটসহ হাজার হাজার বৈদ্যুতিক বাল্ব। এছাড়াও কর্মকর্তাদের বাসভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য হরেক রকমের বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে সারা রাত ধরে। কোন কোন কর্মকর্তার বাস ভবনের প্রধান গেটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যেই জ্বলছে একাধিক বাল্ব। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনাগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে সেটা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। তবে জেলা প্রশাসক বললেন, প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থান নেবে স্থানীয় প্রশাসন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাবস্থা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তিনি আশা করছেন এই সময়ের পর জাতীয় গ্রিডে আরও ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াটের মতো। সরকার বলছে আমরা যদি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারি তাহলে ঘাটতি ৫শ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে অফিস সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার। সরকার বলছে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করতে পারলে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে ৫০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাসাবাড়ি, অফিসে ব্যবহার করার এসি ২৫ ডিগ্রির নিচে চালানো যাবে না, কোন ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না, বিয়েসহ সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, অফিস সময় কমানোসহ আরও কিছু বিষয় আছে। অফিস সময় করোনার সময় যেমন ছিল ৯টা থেকে তিনটা, মানে পিক আওয়ারের আগে অফিস শেষ করা নিয়ে ভাবছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তথ্য বলছে, এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে অনুমোদন পেলেই কর্যকর হবে এসকল সিদ্ধান্ত।

গতকাল রাতে সরোজমিনে দেখা যায়, খোদ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারীকদের কার্যালয় ও বাসভবনে সন্ধ্যা থেকেই জ্বলছে শত শত বৈদ্যুতিক বাল্ব। যার অনেকগুলোই না জ্বালালেও চলতো। এতে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় হয় তার সঠিক হিসেব ওজোপাডিকোর হাতেও নেই। অথচ এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতেই রয়েছে একাধিক নৈশ প্রহরী। তবে সাধারণ জনগণের দাবী নৈশ প্রহরীরা যদি টস লাইট নিয়ে সঠিকভাবে তাদের কাজ সম্পাদন করেন তাহলে এতো পরিমান বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে এই জেলা থেকেই অপচয় রোধ করা যাবে কয়েকশ মেগাওয়াট বিদ্যুত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ সকল প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনের সাথে কথা হলে বিদ্যুৎ অপচয়ের কথাটা স্বীকার করে তারাও বলেন প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বভেদে দুই-একটি বাল্ব জ্বালালেই চলে। রাতভর এত বাল্ব জ্বালানোর কোন প্রয়োজন দেখেন না তাঁরা।

তবে জেলার সুধি সমাজের অনেকেই এই সংকটময় সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ অপচয়ে মর্মাহত হয়ে বলেছেন, জেলার সকল প্রতিষ্ঠানকে আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ এসকল প্রতিষ্ঠানই সরকারের সকল কার্যক্রম জেলাজুড়ে পালন করে থাকে। তবে সেই সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সরকারি নির্দেশনা এড়িয়ে যান, তাহলে সমাজে ভালো বার্তা যায় না। তারা আরও বলেন, বরং ওই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো আগে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাাপন করবেন। তারপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতি মনোযোগ দিবেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খাঁন বলেন, এই মুহুর্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুত ব্যবহার করা ঠিক হচ্ছে না। দেশের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। তাছাড়াও সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ অপচয় না করার জন্য যথাযথ বার্তা পাঠানোসহ পরবর্তী সকল সভা-সেমিনারে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বসহকারে সকলকে বলা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।