চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গার সন্তান মির্জা সায়েম মাহমুদ বিপুল পাচ্ছেন পিপিএম

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ২, ২০১৮ ১২:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জঙ্গি দমনে সাহসিকতায় সোয়াট টিমের চট্টগ্রামের কমান্ডার
নিজস্ব প্রতিবেদক: জঙ্গি দমনে সাহসিতকায় পিপিএম পদক পাচ্ছেন সিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সোয়াট কমান্ডার চুয়াডাঙ্গার সন্তান মির্জা সায়েম মাহমুদ বিপুল। আগামী ৮ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) ব্যাজ পরিয়ে দেবেন। ২০১৭ সালে জঙ্গি দমনে চট্টগ্রামে যে কয়টি অভিযান হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান ছিল সীতাকু-ে। ১৫ মার্চ সীতাকু- পৌরসভার দক্ষিণ মহাদেবপুর এলাকায় একটি জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট-১৬’ পরিচালনা করে পুলিশ। যার মূল নেতৃত্বে ছিল স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) টিম। ২০ ঘণ্টার এ অভিযানে ২০ জনকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আত্মঘাতী চার জঙ্গিসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সোয়াট টিমের চট্টগ্রামের কমান্ডার সিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মির্জা সায়েম মাহমুদসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। জঙ্গি দমনে এই সাহসিকতার স্বীকৃতি এবার পাচ্ছেন মির্জা সায়েম মাহমুদ। চট্টগ্রামের এই সোয়াট কমান্ডার সাহসিতকায় পিপিএম এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সোয়াট টিমের সদস্য এটিএসআই জিহাদ হোসেনও পিপিএম এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। সদ্যসমাপ্ত এই বছরে মির্জা সায়েম মাহমুদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সোয়াট টিমের সদস্যরা আরো কয়েকটি জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। ৭ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় একটি চেকপোস্টে বাস তল্লাশির সময় পুলিশের ওপর হামলার পর সন্দেহভাজন দুই জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ। আটক দুজন হল- জসিম (৩০) ও হাসান (৩২)। এদের মধ্যে একজন পুলিশের শটগানের গুলিতে আহত হয়েছিল। আরেকজনকে বোমা নিয়ে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর সময় আটক করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার গোবানিয়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। এই অভিযানেও ছিলেন সোয়াট টিমের সদস্যরা। ওই আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়। এরপর ২৯ মার্চ কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ী এলাকায় আরো একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট যার সঙ্গেও ছিল সোয়াট টিমের সদস্যরা। জীবন বাজি রেখে প্রতিটি অভিযানে সোয়াট টিমের সদস্যরা অংশ নেন যার স্বীকৃতি মিলেছে পিপিএম পদকপ্রাপ্তির মাধ্যমে, এমনটাই মনে করছেন মির্জা সায়েম মাহমুদ বিপুল। ‘জঙ্গিবাদ, উগ্রপন্থা দমনে সোয়াট টিমের সদস্যরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। চট্টগ্রামে জঙ্গিদের যে কোন কর্মকা- মোকাবেলায় আমরা সবসময় সতর্ক আছি। চট্টগ্রামে কমান্ডার হিসেবে আমাকে পিপিএম দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি এই প্রাপ্তি চট্টগ্রামের সোয়াট টিমের সকল সদস্যের।’ বলেন মির্জা সায়েম। চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল হক মির্জা ও শিক্ষিকা মৃত আমেনা হকের তিন সন্তানের মধ্যে মির্জা সায়েম মাহমুদ বিপুল মেজ। তিনি চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন বিদ্যাপীঠ, ভি.জে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সালে ২৭ তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন মির্জা সায়েম। এরপর তিনি সোয়াট টিমের কমান্ডার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।