চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৪ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গার মালোপাড়ায় বাবা লোকনাথের দোহায় দিয়ে অবিশ্বাস্য প্রতারণা :১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারক সাধুবাবা

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৪, ২০১৭ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 আফজালুল হক: লোকনাথ বাবার দোহায় দিয়ে সাধু সেজে বাড়িতে ঢুকে ১০ ভরি স্বর্ণের অলঙ্কার নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারক। কাগজে ফু দিয়ে আগন জ্বেলে নিজের শক্তি দেখিয়ে মন জয় করে নেন বাড়ির মহিলাদের। সাধুবাবার শক্তির কথা জানতে পেরে বাড়িতে জড়ো থাকে বাড়ির ভাড়াটিয়া মহিলারা। এরপর তাদের স্বর্ণ শুদ্ধ করতে হবে বলে জানান সাধু বাবা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫’শ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় প্রতারক সাধু বাবা। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মালোপাড়া দুর্গামন্দিরের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সামনের নিলা জুয়েলার্সের মালিক পৌর এলাকার মালোপাড়ার শ্রী জুড়োন কর্মকারের স্ত্রী শ্রীমতি নিলা রানী কর্মকারের বাড়িতে ঢুকে নিল রঙের পাঞ্জাবি পড়া এক সাধুবাবা। সাধুবাবা বাড়িতে এসেই নিজেকে লোকনাথের শিষ্য পরিচয় দিয়ে গৃহকর্তার নাম ধরে ডাকতে থাকে। বাবা লোকনাথের কথা শুনেই নিলা রানী ঘর খুলে দেয়। পরে ওই প্রতারক ভুলিয়ে ভালিয়ে বলে, আমাকে কি ঘরে বসতে দিবি না? পরে তাকে ঘরে নিয়ে জল পানি খেতে দেয়া হয়। এরপর সে একটি কাগজে ফু দিয়ে আগুন জ্বেলে তাক লাগিয়ে নিয়ে মন জয় করে নেয় মহিলার। আস্তে আস্তে জড়ো হয় বাড়ির ভাড়াটিয়ারা। তাদের উপস্থিততে গৃহবধুকে তাদের অতিতের কিছু ঘটনা শোনাতে থাকে। সব কিছু হুবহু মিলে গেলে সাধু বাবাকে সত্যি বলে আসন দিয়ে ভক্তি শুরু করে তারা।
সাধুবাবা এ সময় বলে, তোর বাড়িতে ঘোর বিপদ, এই বিপদ কাটাতে হলে ১হাজার ১টাকা দিতে হবে। তার কথামত ১ হাজার ১ টাকা তার হাতে দিলে সে টাকা গুলো পকেটে ভরে কিছুক্ষনের মধ্যে সেই টাকা ফেরত দিয়ে বলে তোর মন পরিক্ষা করলাম। তুই উত্তীর্ণ হয়েছিস। সে আরো বলে, এ পর্যন্ত কারো উপকার করিনি। আজ তোদের উপকার করতে এসেছি। তোদের বাড়িতে সোনা দানা গয়না যা আছে সব অশুদ্ধ। স্বর্ণগুলো আমার সামনে নিয়ে আয়, আমি ফু দিয়ে দেব তাতে স্বর্ণগুলো শুদ্ধ হয়ে যাবে। সাধুবাবার কথা বিশ্বাস করে বাড়িতে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণ অলঙ্কার ও নগত ৫শত টাকা একটি রুমালে বেধেঁ সাধুবাবার হাতে তুলে দেয়। সাধুবাবা সেগুলো হাতে পেয়ে রুমালে ফু দিয়ে চোখ বুজে কিছুক্ষন মন্ত্র আওড়াতে থাকে। এই সময়ে ওই মহিলা সাধু বাবার সাথে একটি ছবি ওঠার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা বারন করে ওই সাধু বাবা। পরে জোর করে একটি ছবি ওঠায় ওই মহিলা। তার নিজের মোবাইল ফোনে সাধুবাবার একটি ছবি তুলে রাখে। ২/৩ মিনিট পরে মহিলার হাতে সেই স্বর্ণ অলঙ্কার বাধা রোমাল তুলে দিয়ে বিদায় নেয় সাধুবাবা। সাধুবাবা চলে যাবার পর বিষয়টি খটকা লাগে গৃহবধুর। পরে রোমাল খুলে দেখে রোমালে বাধা একটি আলু ৩ ভাগ করে কাটা। তাতে কোন স্বর্ণ নেই। মহিলা দ্রুত বাড়ির বাইরে এসে সাধুবাবাকে খুজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। বাসায় পুরুষ মানুষ না থাকাই তিনি সাথে সাথে থানায় যান। সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
গৃহবধু নিলা রানী কর্মকার বলেন, ওই লোকনাথ বাবার পরিচয়ে আসা সাধু লোকটির অলৌকিকতা দেখে আমি ভাবতেও পারিনি সে প্রতারক। তিনি আমাকে বশ করে ফেলেছে। কারণ তিনি যা যা বলেছে আমি তাই তাই করেছি। প্রতিবেশীরা বলেন, এই গৃহবধু খুব চালাক প্রকৃতির। আমরা ভাবতেও পারছিনা যে সাধুবাবা বোকা বানিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে ভেগেছে। এঘটনার পর ওই গৃহবধু অসুস্থ হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি ও বিস্তারিত শুনেছি এবং মোবাইলে ধারণ করা ছবি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। খুব তাড়াতাড়ি খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।