চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১০ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গার বদলে মাগুরা জেলা দলে খেলার রহস্য কী?

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১০, ২০২১ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে পৌছেছেন চুয়াডাঙ্গার মেয়ে হাফিজা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন চুয়াডাঙ্গার মেয়ে হাফিজা খাতুন। জেলার ক্রিড়াঙ্গনে খবরটি বেশ আনন্দের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জেলাজুড়ে বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। গতকাল শনিবার সকালেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা ছাড়েন হাফিজা খাতুন। বিকেলে তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন এবং আজ রোববার ও সোমবার জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে অংশ নিবেন। তবে, অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন সদ্য শেষ হওয়া জেএফএ কাপে হাফিজা খাতুন চুয়াডাঙ্গার হয়ে না খেলে মাগুরার হয়ে কেন খেললেন?
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের সিএন্ডবিপাড়ার হাফিজুর রহমান ও আলেয়া খাতুন দম্পতির জ্যৈষ্ঠ কন্যা হাফিজা খাতুন। তিনি চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত ‘জেএফএ কাপ জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল প্রতিযোগিতায়’ খেলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে হাফিজা খাতুন। মাগুরা জেলা দলের গোলকিপার হয়ে খেলেন তিনি। মাগুরা দল ওই খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয় এবং সবচেয়ে ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হন গোলকিপার হাফিজা খাতুন। বিষয়টি নজর কাড়ে ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের। হাফিজা খাতুনের ডাক পড়ে, জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে। রোববার ও সোমবার এ ক্যাম্পেইন শেষে জানা যাবে, হাফিজা খাতুন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে নিজের স্থান করে নিতে পারবেন কিনা।
দৈনিক সময়ের সমীকরণের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় হাফিজা খাতুনের। তিনি বলেন, জেএফএ কাপে ভালো করায় জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে ডাক পেয়েছি। জেএফএ কাপে আমি মাগুরা জেলা দলের হয়ে খেলেছিলাম। যদি চুয়াডাঙ্গার জন্য খেলতে পারতাম, তাহলে আরও ভালো হতো। বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলার দিক দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় সেরকম সুযোগ নেই। এবারের জেএফএ কাপে চুয়াডাঙ্গা অংশগ্রহণই করেনি।
হাফিজা খাতুন আরও বলেন, আমি মনে করি চুয়াডাঙ্গায় মেয়েদের খেলার চর্চা বাড়লে অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে। আমি গত করোনার মধ্যে থেকে মোটে দেড় বছর ধরে খেলা চর্চা করছি। চুয়াডাঙ্গার মাহাতাব বিশ্বাস প্রমিলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক সালাউদ্দিন বিশ্বাস মিলন স্যারের তত্ত্বাবধানে আমরা এ চর্চাটা চালিয়ে যাচ্ছি। জেএফএ কাপে মাগুরার হয়ে চুয়াডাঙ্গার আমরা চারজন মেয়ে খেলেছি। প্রত্যেকেই ভালো খেলেছে। জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) মাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা ও নিয়মিত চর্চা থাকলে চুয়াডাঙ্গার মেয়েরাও ফুটবলে ভালো করবে।
চুয়াডাঙ্গার মহাতাব বিশ্বাস প্রমিলা ফুটবল একাডেমির কোচ কাম পরিচালক সালাউদ্দিন বিশ্বাস মিলন বলেন, হাফিজা খাতুন খুব ভালো খেলে। চর্চা ধরে রাখতে পারলে সে আর ভালো করবে। তবে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেই এই পরিচালক আরও বলেন, আমাদের জেলার মেয়েরা ভালো খেললেও চুয়াডাঙ্গায় পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেক প্রতিভার মূল্যায়ন হয় না। হাফিজা মাগুরা জেলা দলের গোলরক্ষক হিসেবে জেএফএ কাপ জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় খেলে। সে জাতীয় দলের ডাক পেয়েছে, এটা চুয়াডাঙ্গার জন্য গৌরবের বিষয়। তবে দুঃখটা সে মাগুরা জেলা দলের গোলরক্ষক হিসেবে খেলায় অংশ নিয়েছিলো। পর্যাপ্ত সুযোগ আর চুয়াডাঙ্গা ডিএফএ’র নিয়মিত চর্চা থাকলে, আরও কয়েকটা প্রতিভা চুয়াডাঙ্গা থেকে বের করা যেতে পারে।
জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম লাড্ডু মুঠোফোনে দৈনিক সময়ের সমীকরণকে জানান, হাফিজা খাতুনের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাম্পিংয়ে ডাক পাওয়ার খবরটি তিনি শুনেছেন মাত্র। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেই রাজি হননি তিনি।
এদিকে, হাফিজা খাতুন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার হাফিজা খাতুনকে ক্রেস্ট উপহার দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।