চুয়াডাঙ্গার পাচঁমাইল বাজারে সন্ধ্যারাতে পরপর দুইটি বোমার বিস্ফোরণ : এলাকাজুড়ে আতঙ্ক: দোকানি হাসান জখম : থানায় মামলা : আটক ১

333

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে ইকরামুল: চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জের পাঁচমাইল বাজারে তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে সন্ধ্যারাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক বাজারের হাসান অ্যান্ড হোসেন স্টোরে হামলা চালায় এবং পরপর দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানমালিক হাসানকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় ওই যুবকদল দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙ্গে নগদ প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। হঠাৎ বোমার বিস্ফোরণে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অপরাধীদের ধরতে রাতভর পুলিশ চিরুনী অভিযান চালিয়ে একই এলাকার নজুর ছেলে স্বপনকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে গতরাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে সুবদিয়া পূর্বপাড়ার ইউনুচ আলীর ছেলে হাসানুজ্জামান হাসান (৩০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৮টার দিকে পাঁচমাইল বাজারস্থ হাসান এ্যান্ড হোসেন ষ্টোরে বসে ছিলেন দোকান মালিক হাসানুজ্জামান হাসান। হঠাৎ পর পর দুটি পটকার আওয়াজ শোনার পরপরই চারটি মোটরসাইকেলযোগে ৯/১০ জন যুবক এসে হাসানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় হাসানের চিৎকারে স্থানীয়রা এলে যুবকরা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে অন্য দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা হাসানের দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা ভুট্টা বিক্রির নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে হাসানুজ্জামান হাসানকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। মামলায় সুবদিয়া কাচারী পাড়ার নুর ইসলামের ছেলে সুমন (২৫),  মৃত নবীরুদ্দীনের ছেলে রবগুল (৩৫), ইউনুচ মোল্লার ছেলে জামাল (৩৫), নজরুল ইসলাম ওরফে নজুর স্বপন (২৫), আয়াত আলীর ছেলে সাদ্দাম (২৬), রজব আলীর ছেলে রসুল (২৩), আব্দুল বারেকের ছেলে জালাল (২৯), মৃত খেজমত আলীর ছেলে মকবুল হোসেনের (৪০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল জানান, ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে। এছাড়া রাতেই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একজনকে গ্রেফতারও করা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে।