চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৬ অক্টোবর ২০১৬

চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুর ক্যাডার বাবুলের তাণ্ডবে আতঙ্কিত এলাকাবাসী চাঁদা না পেয়ে হামলা মিথ্যা মামলা : পুলিশ প্রশাসনের নালিশ করে মিলছে না প্রতিকার

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৬, ২০১৬ ১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

eeeee

মাখালডাঙ্গা থেকে ফিরে বিশেষ প্রতিনিধি মেছো কার্তিক: চুয়াডাঙ্গা মাখালডাঙ্গায় ক্যাডার বাবুল নিরীহ জনগনের কাছে চাঁদা দাবী করে চাঁদার টাকা না পেয়ে সসস্ত্র হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ঘটনাটি দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে চলে আসলেও এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে নালিশ করেও কোন প্রতিকার হয়নি। বরং আরো বেশী উশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করছে বাবুল বাহিনী। বেশ ক’জন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ও দিননাথপুর বটতলা পাড়ার মৃত কপিল মিয়ার ছেলে কোরবান জিয়া অভিযোগ করেন মাসখানেক আগে তার কাছ থেকে বাবুল বাহিনীরা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। পরে টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার বাড়ি থেকে একটি ৬৫হাজার টাকা মূল্যের গরু জোর করে নিয়ে যায়। একই গ্রামের স্কুল পাড়ার মৃত ইবাদুল¬াহ মন্ডলের ছেলে গরু ব্যাপারী হানিফ বলেন, গত কোরবানীর আগে বাবুল বাহিনীরা আমার কাছে থেকেও ১০হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রাননাশের হুমকী দেয় বাবুল বাহিনীরা। পরে বাধ্য হয়ে হানিফ গ্রাম ছেড়ে চাঁনপুর বিয়াই তৈয়ব আলীর বাসায় অবস্থান করছে। গ্রামের মানুষ এ নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকছে। কোরবান জিয়া আরও অভিযোগ করে বলেন গত ৩দিন আগে আমার সাথে বাবুল বাহিনীর সদস্য চাঁন মিয়ার মোবাইলের দরদাম নিয়ে তর্কবিতর্ক হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাবুল বাহিনীরা। তারপরের দিন বাবুল বাহিনী আমাকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সামনে সুযোগ পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় বাবুল বাহিনীর সদস্য চাঁন মিয়া এই ঘটনার পূর্বেই সড়ক দূর্ঘটনায় তার ভাঙ্গা পা নিয়ে আমার ও ফয়জর আলীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরের দিন পুলিশ ফয়জারকে আটক করলে সে জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন এলাকার শান্তি বিনষ্টে গত পরশু রাতে বাবুল বাহিনীর সদস্য চাঁন মিয়া নিজের বাড়িঘর নিজেই ভাংচুর করে কোরবান জিয়া, নূর নবী ও ছামদানিসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা ঘরবাড়ি  ভাংচুরের মামলা সাজানোর চেষ্টা করছে। গ্রামবাসীরা আরো বলেন, বাবুল বাহিনী ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস পাইনা। এ বিষয়ে মাখালডাঙ্গা ইউপি সদস্য ঠান্ডুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাবুল বাহিনী বেপরোয়া অত্যাচারে গ্রামের নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ। তবে তিনি স্বীকার করে বলেন যে, বাবুল বাহিনী গ্রামের মানুষের নিকট থেকে ফায়দা হাসিলের জন্য এসব করছে এবং মিথ্যা মামলাতো আছেই। তাদেরকে বলার মতো গ্রামে কেউ নেই। এদিকে গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগীরা বাবুল ও তার বাহিনীর সদস্য মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের ক্লাব পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে বাবুল (৩০), একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে চাঁন মিয়া (৩৫), এরশাদ (২৮), সুলতানের ছেলে মাহফুজ (২৫), করিমুল¬াহর ছেলে রবিউল (২২) সুরুজ মিয়ার ছেলে রশিদ (২২) ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে শহিদ (৫০) এর অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।