চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিত্যাক্ত ভবনগুলো অরক্ষিত চুরি ও নষ্ট হচ্ছে এর মূল্যবান সামগ্রী : উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের

284

Damurhuda Picture (Abundend School Building)=02.10.2016= (2) Damurhuda Picture (Abundend School Building)=02.10.2016= (1)নুরুল আলম বাকু: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ও পরিত্যাক্ত ভবনগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ আরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনগুলোর জানালা, দরজা, ইট, চালের টিনসহ অনেক জিনিস চুরি ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে এসব ঘটলেও ভবনগুলো অপসারন বা রক্ষার কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পুরাতন ভবন ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে নতুন ভবন তৈরি হওয়ায় পরিত্যাক্ত ভবনগুলো আর ব্যবহার করা হয় না। ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার কারনে চোরচক্র ঘরের জানালা-দরজা, দেওয়ালের ইট, চালের টিনসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে এসব ঘটলেও পরিত্যাক্ত ভবনগুলো ও এর জিনিসপত্র রক্ষার কোন উদ্যোগ নেই। উল্লেখ্য, ০৯/০১/২০১৩ ইংরেজি তারিখে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বেসরকারী প্রাইমারি স্কুলগুলোকে জাতীয়করনের  ঘোষনা দেন যা ০১/০১/২০১৩ তারিখ থেকে কার্যকরী হয়। ফলে বর্তমানে এসমস্ত স্কুলের পরিত্যক্ত ও পুরাতন ভবনগুলোও সরকারি সম্পদ হিসাবে বিবেচিত। সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে উপজেলার চন্ডিপুর, জিরাট, ছাতিয়ানতলা, চন্দ্রবাস, দর্শনা কাষ্টমস ও আজমপুর সরকারি স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলের পুরাতন ভবন ব্যবহারের অনুপোযোগী হওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সেই থেকে বিদ্যালয় চত্ত্বরেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার কারনে ভবনগুলোর দরজা-জানালা, চালের টিন, দেওয়ালের ইট ইত্যাদি চুরি ও রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন এগুলোর বিক্রয়মূল্য কমে যাচ্ছে। অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা এ ভবনগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করলে এখনও অনেক অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব। যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক উন্নয়নের কাজ  হতে পারে। অনেক বিল্ডিং আছে যেগুলোর পুরাতন ইট ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর, টয়লেট, গ্যারেজ ইত্যাদি নির্মান করা যেতে পারে। বিদ্যালয় চত্ত্বরের এসমস্ত জানালা-দরজা বিহীন ঘরে শিক্ষার্থীরা খেলা-ধুলা করে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় জরাজীর্ণ ছাদ ও দেওয়াল ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে স্কুল ছুটি থাকলে ও রাতের বেলায় এসব পরিত্যক্ত ভবনের ঘরের মধ্যে জুয়া খেলা, মাদক সেবন ও নানারকম অসামজিক কার্যকলাপ চলে। যার ফলে স্কুল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পরিত্যাক্ত ভবনের ভাঙা ইট-পাটকেলের মধ্যে সাপ পোকামাকড়ের আখড়া হয়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব জায়গায় খেলতে গিয়ে বিষধর সাপসহ বিষাক্ত পোকামাকড়ের আক্রমনের শিকার হতে পারে। অনেক পরিত্যাক্ত ভবনের স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের বাইসাইকেল মোটর সাইকেল ইত্যাদি রাখার গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিত্যাক্ত ভবনগুলো স্কুলের অনেকখানি জায়গা জুড়ে থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও খেলাধুলা করতে অসুবিধা হয়। সচেতন মহল মনে করেন, বিভিন্ন্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অনুপযোগী পুরাতন ও পরিত্যক্ত এসমস্ত  ভবন বিক্রি করা হলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমান অর্থ পাওয়া যাবে অপরদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরাসহ খেলার জায়গা পাবে এবং সেইসাথে এসব পরিত্যাক্ত ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে স্কুল ও  তৎসংলগ্ন এলাকায় সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরে আসবে ।   এ ব্যপারে দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরজাহান বলেন, ইতোমধ্যেই ৭টি স্কুলের পরিত্যাক্ত বিল্ডিং নিলামে দিয়ে দিয়েছি। এখনও ১০/১২টি স্কুল আছে, বর্তমানে সেগুলোও নিলামে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে।