চুয়াডাঙ্গার জামাই মিজানুর রহমানের জেল!

697

ইউনানি থেকে পাশ করে ১২ বছর ধরে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইউনানি থেকে পড়াশোনা করেছেন, অথচ চিকিৎসা দেন হৃদরোগ, লিভার, জন্ডিস, বাত-জ্বরের মতো কঠিন রোগের। করেন হার্ট সার্জারিও। চুয়াডাঙ্গা দৌলাতদিয়াড়ের মার্কাজ মসজিদপাড়ার জামাই মিজানুর রহমান নামে ওই চিকিৎসক রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এভাবে প্রতারণামূলকভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। ইউনানির সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে মিজানুর রহমানকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়া ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য রাখার দায়ে হাসপাতালের ফার্মেসিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালে অনিয়মের খোঁজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব-৩। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু বলেন, ‘মিজানুর রহমান ইউনানি প্রাক্টিশনার বা হেকিম। কিন্তু তাঁর কাছে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পিএইচডিসহ নানান সার্টিফিকেট আছে। তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি ইউনানি পড়ে এ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনে প্রেসক্রাইব করতেন। কিন্তু তিনি এ্যালোপ্যাথিকে চিকিৎসা এবং ডাক্তার পরিচয় দিতে পারেন না। যেহেতু তিনি ইউনানি সনদধারী, সেহেতু তিনি হেকিম পরিচয় দিতে পারেন। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতেন। এ জন্য মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সহকারী সুপার হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য পাওয়ায় ফার্মেসির শফিউল ইসলাম ও আব্দুল জলিলকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।’
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই চিকিৎসক মিজানুরের শ্বশুর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দৌলাতদিয়ারের মার্কাজ মসজিদপাড়ায়। তাঁর শ্বশুর মৃত ওয়াজেদ আলী বড় বাজারের নিচের বাজারে ব্যবসা করতেন। স্ত্রীর নাম পপি খাতুন শ্বশুর বাড়ির সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তিনি চুয়াডাঙ্গাতে বাড়িও করেছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গাতে আসলে এই বাড়িতে রোগী দেখতেন।