চুয়াডাঙ্গার কোনো হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম নেই

371

chuadanga@hospi.dghs_.gov_.bd_-842x474

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় সরকারি–বেসরকারি হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের একটিরও নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নেই। এসব চিকিৎসাবর্জ্য আস্তাকুঁড়ে বা খোলা জায়গায় ফেলায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন রওশন আরা গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসাবর্জ্য বিনষ্ট করতে বিশেষ ধরনের চুল্লি দরকার। বর্জ্য কোথায় ফেলতে হবে সেটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের একপাশে তা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ভ্যানে তা সরিয়ে নিয়ে যায়।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও জেলায় বৈধ-অবৈধ অন্তত ৮০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র রয়েছে। এসব স্থানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাবর্জ্য জমে, যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নিয়ম অনুযায়ী এসব বর্জ্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করে বিশেষ যন্ত্রে শোধনের কথা। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার সরকারি-বেসরকারি কোনো চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রেই সেই ব্যবস্থা নেই। এমনকি কোনোটির কর্তৃপক্ষই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র নেয়নি।
গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে তিন রঙের তিনটি ড্রাম চোখে পড়ে। এগুলোতে সংক্রামক বর্জ্য, ধারালো বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য পৃথকভাবে রাখা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই দেখা গেল, একজন স্বেচ্ছাসেবক সব কটি ড্রামের বর্জ্য হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন বিভাগের পাশে ১ নম্বর কেবিনসংলগ্ন খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই খোলা জায়গাতেই হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ওয়ালিউর রহমান বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়। রক্ত-পুঁজ লেগে থাকা গজ ও তুলাসহ অন্যান্য বর্জ্য আস্তাকুঁড়ে ফেলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার অন্যান্য সব সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রেই একই অবস্থা। চিকিৎসাবর্জ্য যেখানে–সেখানে ফেলে রাখা হয়। আবাসিক এলাকায় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এসব বর্জ্য ফেলে রাখায় শুকিয়ে বাতাসে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। বৃষ্টিতে মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হচ্ছে।
জেলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্জ্য শোধনের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্জ্য পৌরসভার ভ্যান এসে নিয়মিত নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাবর্জ্য অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ১৫ (১) ধারা অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ। দোষী ব্যক্তিদের তিন বছর সশ্রম কারাদ- বা তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হতে পারে।
সিভিল সার্জন রওশন আরা বলেন, সদর হাসপাতালের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য জেলা পরিষদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তারা হাসপাতাল চত্বরে টিনশেডসহ তিনটি আস্তাকুঁড় তৈরির আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া তিনি ৮ জুন ঢাকায় যাবেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন।