চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২১ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এপ্রিল ২১, ২০২২ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মারমুখী আচরণ করে আমি ওনাকে সেভ করে দিয়েছি : কালাম চেয়ারম্যান

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানকে আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর লোকজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন এই প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে এ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষককে মারধরের এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তেমনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধরের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে তীব্র সমালোচনা।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান দৈনিক সময়ের সমীকরণকে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণসহ যুবক ও তরুণদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য ভেন্যু হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠানটিকে নেওয়া হয়। আলুকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সাথে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আলোচনা করলে প্রথমে তিনিও সম্মতি দেন। হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার ইউপি চেয়ারম্যান জানান মেয়েদের স্কুলে ইভটিজিং হতে পারে, এ প্রশিক্ষণটি এখানে হবে না। প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান ট্রেনিং কর্তৃপক্ষকে মঙ্গলবারই এ কথা জানিয়ে দেন। গতকাল বুধবার স্কুলে বেশ কয়েকজন এসে কেন প্রশিক্ষণ এখানে হবে না কেন, এরকম প্রশ্ন করে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের সাথে মারমুখী আচরণ করে। এসময় কয়েকজন চেয়ারম্যানের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জানায় চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হবে। প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কাছে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষকের নামে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ দেয় কয়েকজন। এ সময় প্রশিক্ষণ হবে কি হবে না, সেই অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষকের চোখে একটি ঘুষি মারেন।

প্রধান শিক্ষক আরও জানিয়েছেন, এরপর চেয়ারম্যান তাঁকে আরও কিল-ঘুষি মারে, আর মুখে বাজে কথা বলতে থাকে। চেয়ারম্যানসহ তার লোকেরা প্রধান শিক্ষককে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা, বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি ফোর্স তাকে মুক্ত করে।

প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার (আজ) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।’ এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার সাহা বলেন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে একটি সমস্যা হয়েছিল। তবে প্রধান শিক্ষককে মারধরের কোনো কথা আমি শুনিনি। তিনি যদি কোনো অভিযোগ দেন, তদন্ত করে দেখা হবে।

এবিষয়ে আলুকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আজকের (গতকাল) ঘটনায় প্রথম দিকে আমি ছিলাম না। আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আগেই একটি প্রশিক্ষণ করিয়েছিল। সেটা নিয়েও ঝামেলা হয়েছিল। সপ্তাহ খানিক থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম। পরে প্রধান শিক্ষক আমার কাছে গিয়ে বলে। তখন আমি তাকে বলি, এটি একটি বালিকা বিদ্যালয়, বিভিন্ন এলাকার ছেলেরা আসবে, এসব ঝামেলায় না যাওয়ায় ভালো। উনি আমাকে বলল, ডিসি স্যার, ইউএনও স্যার অনুমতি দিয়েছে। তাহলে তো আমার কিছু করার থাকে না। তারপর দেখি উনি বারবার আসে, তো আমার সন্দেহ হলো, মঙ্গলবার ওনাকে বললাম আপনার যদি তারা অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে তো আর আমার কাছে জানার কিছু নেই। তো আমি ইউএনও স্যারের সাথে মুঠোফোনে কথা বললাম। স্যার বললেন, উনি তো আলোচনা করেছিল। তবে আপনি একটু ভেবে দেখেন। তো স্যারকে ঘটনা খুলে বলার পর, স্যার বললেন আপনি ঝামেলা মনে করলে করতে দিয়েন না। আমি ওনাকে নিষেধ করলাম। তো কিছুক্ষণ পর দেখি, স্কুলের শিক্ষকরা এসেছে আমার কাছে। তারাও বিচ্ছৃঙ্খলার কথা বলে। আজ (বুধবার) বোধহয় কোনো সমস্যা হয়েছে। তো সবাই চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে এসেছে এমনটা। তখন ছেলেরা অভিযোগ করল টাকা নেওয়ার। তো আমি দেখলাম এবার তো সমস্যা। স্কুল থেকে আমি হেড মাস্টারকে ধাক্কা-ধুক্কি মেরে আমার রুমে সেফটির জন্য রাখলাম। পরে আমি ওসি সাহেবের কল দিলাম। ওসি তদন্ত, শিক্ষা অফিসার যেয়ে ছাত্রদের বিদায় করা হলো। পরে হেড মাস্টারকে বিদায় দেওয়া হলো।’

এসময় হেড মাস্টারকে মারধর করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছেলে-পিলে না, আমি হেড মাস্টারকে থাবা-থুবি মেরে আমার রুমে ঢুকিয়েছি। তা না হলে ছেলে-পিলে তো উঠতে দিতো না। মারমুখী আচরণ করে আমি ওনাকে সেভ করে দিয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে প্রশিক্ষণার্থীদের একটু সমস্যা হয়েছিল। ইউপি চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানালে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কি হয়েছিল, সেটি শিক্ষা অফিসার ভালো বলতে পারবেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম ভূঁইয়া বলেন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ভেন্যু নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তবে চেয়ারম্যানের সাথে কোনো সমস্যা কি না, সেটা জানি না। প্রধান শিক্ষক অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।