চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৯ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিনিশিল্পকে বাঁচাতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৯, ২০২০ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

রাষ্ট্রীয় চিনিকলসমূহ বন্ধের প্রতিবাদে দর্শনা ও কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
রাষ্ট্রীয় চিনিকলসমূহ বন্ধের প্রতিবাদে ও পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ও কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
দর্শনা:
‘ইক্ষু কেন চক্ষুশূল? এই শিল্পও কৃষক কূল, কৃষক-শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বাতিল করুন সিদ্ধাদেশ’ এ স্লোগানে সারা দেশের ১৫টি চিনিকলের ন্যায় দর্শনায় রাষ্ট্রীয় চিনিকলসমূহ বন্ধের প্রতিবাদে ও পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় দর্শনা রেলবাজার বটতলা থেকে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার প্রধান সড়কের দুই ধারে দর্শনার আপামর জনতা শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে মানববন্ধন পালন করেন। কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন দর্শনার সকল রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন, দর্শনা প্রেসক্লাব, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাজার কমিটি, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বনিক সমিতি। এসব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে রেল বাজার বটতলা চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান মন্জু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি অ্যাড. কমরেড শহিদুল ইসলাম, জাসদ (আম্বিয়ার) কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, চুয়াডাঙ্গা জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সৈয়দ মজনুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী ও কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান।
মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া চিনিশিল্প সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে আরও সমস্যায় নিমজ্জিত হচ্ছে। বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে চিনিকল বন্ধের পায়তাঁরা করছে একটি মহল। সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের ও কর্পোরেশনের আমলাদের এ চিনিশিল্প বন্ধের পরিকল্পনা বাতিল না করা পর্যন্ত আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তা ছাড়া নিজেদের এলাকার চিনিশিল্পের ওপর ওই এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ কয়েক লক্ষ পরিবার নির্ভরশীল। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে দারিদ্রতা বৃদ্ধি পেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আখচাষি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক বারী বিশ্বাস, সহসভাপতি ওমর, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন, সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ, দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান, সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান হাবু, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান, অনির্বাণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ফজলুর রহমান, সমাজসেবক হাজি আকমত আলী, দর্শনা পৌর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক আরিফ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ছোট, আব্দুল মান্নান, শেখ আসলাম আলী তোতা, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তপু, বণিক সমিতির পরিচালক হারুন-আর রশিদ, দর্শনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। মানববন্ধন ও আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর আলম লুল্লু।
কালীগঞ্জ:

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা পাওনা বেতন ও কৃষকের সার কীটনাশক এবং মিল চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সকালে মিলের প্রধান ফটকের ঢাকা-খুলনা সড়কে এই মানববন্ধন করেন তাঁর। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের আইন ও দরকষাকষি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রসুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন আখচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মণ্টু, চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ মিলের শত শত শ্রমিক-কর্মচারী। শ্রমিকরা জানায়, চলতি ২০২০-২১ রোপণ মৌসুম শুরু হলেও কৃষকের সার ও কীটনাশক কিনতে না পারায় বন্ড বা স্ট্যাম্প করছে না মিল কর্তৃপক্ষ। সার ও কীটনাশক না পেয়ে বিপাকে পড়েছে আখচাষিরা। ফলে সময় মতো বন্ড না হওয়ায় আখ রোপণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে কৃষকেরা। অন্যদিকে মিলের শ্রমিক কর্মকর্তাদের তিন মাসের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বাকি। বাকি রয়েছে গেল বছরের মৌসুমি শ্রমিকদের অভার টাইমের প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও মিলের এমন নাজুক অবস্থায় শ্রমিক কর্মচারী ও মিল এলাকার আখচাষিদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।