চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিন

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমদানি শুল্ক কমালে চালের দাম কমবে-ব্যবসায়ীদের এমন দাবির মুখে এক মাসের ব্যবধানে সরকার চালে আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। তা সত্ত্বেও চালের বাজার স্থিতিশীল হয়নি বরং দিন দিন চালের দাম আরো বাড়ছে এবং সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন এ পরিস্থিতি খুব সহজে সামাল দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ঈদ-পরবর্তী যানজট, পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান, সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের কারসাজিসহ নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা সমস্যাকেও দায়ী করছেন অনেকে। ১১ সেপ্টেম্বর চালের বাজারের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। যে কারণে সারাবছরই চালের চাহিদা একইরকম। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে চালের অভাব হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু এবারের বৈরী আবহাওয়ায় বোরোর ফলন কাঙ্খিত মাত্রা অর্জন করতে পারেনি। বোরোতে চালের উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করা সহজ কথা নয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় সরকারি গুদামেও পর্যাপ্ত চাল মজুদ করা সম্ভব হয়নি। বছরে চালের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টন। এর মধ্যে বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়। কিন্তু এবার হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর উৎপাদন কম হয়েছে। যে কারণে সরকারকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানি চুক্তি করতে হয়েছে। চালের আমদানি বাড়াতে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ হলেও বাজারে তেমন প্রভাব না পড়ায় গত ১৭ আগস্ট আমদানি শুল্ক আবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। এতেও কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনছে না। বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধিসহ মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যা এবং সড়কপথে বিশাল জটের কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে এমনটি মনে করছেন অনেকে। আবার সরকার চালের ওপর শুল্ক কমানোর সংবাদে সাপ্লাইয়াররা বুকিং রেট বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমদানিকারকরা শুল্ক কমানোর সুবিধা পাচ্ছে না এমন বক্তব্যও রয়েছে। অন্যদিকে একটি চক্র কারসাজি করে চালের বাজার অস্থির করে তোলার পাঁয়তারা করছে এমন তথ্যও রয়েছে প্রকাশিত সংবাদে। সরকারি গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুদ নেই-এ ধরনের সংকটকে পুঁজি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী এর শতভাগ সুযোগ নিয়ে বাড়তি লাভের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শুল্ক কমানোর ফলে আতপ ও ভারতীয় মোটা চালের আমদানি বাড়লেও সরু ও মাঝারি চালের আমদানি কম হওয়ায় দেশের মিল মালিকরা এর সুযোগ নিতে ছাড়ছে না। দুই দফা বন্যার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে কাঙ্খিত চাল না পাওয়া ও রোহিঙ্গা সংকটকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে সব দায় এড়াতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। সংকট চতুর্মুখী হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। সরকারি মজুদ কমে যাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব চালের বাজারে পড়তে পারে-এমন শঙ্কাই বাড়ছে দিন দিন। চালের বাজার পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয় বলেই আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে হবে। চালের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন সংকট, যানজটসহ নানামুখী কারণ রয়েছে বটে সেই সঙ্গে অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিও কম দায়ী নয়। এদের দিকেও নজর রাখা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।