চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২০ জানুয়ারি ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চালকের দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ২০, ২০২১ ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উথলীতে স্লিপার বহন করা ট্রলিতে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কা
উথলী প্রতিবেদক:
জীবননগর উপজেলার উথলীতে চালকের দক্ষতায় রেলস্টেশনে প্রবেশের পূর্ব মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল খুলনাগামী ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ ঘটনায় তেমন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনার দায় নিতে কেউই রাজি নয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে উথলী হাইস্কুলের সামনের রেললাইনের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
জানা যায়, রেললাইন সংস্কারের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই উথলী স্টেশনের আওতাধীন রেললাইনের একটি অংশে সংস্কার কাজ চলমান ছিল। সেই অনুসারে দর্শনা ও উথলী রেলস্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি অবগত করা ছিল, যাতে কোনো ট্রেন ওই অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে না যেয়ে যেন ধীরগতিতে চলে, এমন সংকেত যেন চালকদের দেওয়া হয়। তেমনভাবেই সারা দিন কাজ চলছিল। কিন্তু বিকেল চারটার পরে কাজ শেষে রেললাইনের স্লিপার বহন করে নিয়ে একটি ট্রলিতে করে উথলী স্টেশনে ফিরছিলেন সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা। ট্রলিটি উথলী হাইস্কুলের সামনে পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৬৫১০ নম্বর লোকোমোটিভ খুলনাগামী ডাউন ৭২৬ সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে দর্শনা অভিমুখ থেকে এসে ট্রলিতে সজোরে ধাক্কা মারে। ট্রলি চালানোর কাজে যুক্ত থাকা ব্যক্তিসহ ট্রলিতে থাকা অন্যরা এ সময় দ্রুত লাইন থেকে মাটিতে নেমে প্রাণে বাঁচেন। ঘটনার পর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের নিচের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রেনটি দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রলিতে থাকা এক ব্যক্তি জানান, ‘লাইনে কাজ চলমান থাকায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনা থেকে উথলী অংশে প্রবেশ করা প্রত্যেকটা ট্রেনের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার থাকার কথা। সারা দিন সেভাবেই ট্রেন চলাচল করেছে। বিকেল চারটার পরে আমরা কাজ শেষে ট্রলিতে করে নষ্ট স্লিপারসহ অন্যান্য জিনিস বহন করে নিয়ে উথলী স্টেশনের দিকে ফিরছিলাম। এ সময় দ্রুতগতিতে পেছন দিক থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে আমাদের ট্রলিতে ধাক্কা মারে। ট্রলি থেকে নেমে পড়ায় আমরা প্রাণে বেঁচে যায়।’
ট্রেন চালকের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ট্রেনের চালক উথলীর পূর্ববর্তী স্টেশন দর্শনা থেকে এমন কোনো সংকেত না পাওয়ায় তিনি অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক গতিতেই ট্রেন চালিয়ে আসছিলেন। সুন্দরবন ট্রেন আসার অল্প একটু আগেই খুলনাগামী ডাউন ৭২৮ রূপসা এক্সপ্রেস উথলী রেলস্টেশন পার হওয়ার কারণে আপাতত আর কোনো ট্রেন না আসার সম্ভাবনায় তাঁরা ট্রলি বোঝাই করে উথলী ফিরছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। তাদের আরও একটু নিশ্চিত হয়ে তারপর ট্রলি চালানো উচিত ছিল বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে ট্রেনের চালক অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ইমার্জেন্সিভাবে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো ট্রেনের যাত্রী। না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ছিল।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উথলী রেলস্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার। তিনি বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তাছাড়া এই সমস্যার জন্য আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। তবে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আজ যদি একটা ট্রাজেডি তৈরি হতো, তাহলে তার দায়িত্ব কে নিতো?’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।