চালককে ছুড়িকাঘাত করে আলমসাধু ছিনতাই : জানেন না ওসি

1162

চুয়াডাঙ্গার ঝিলখালিতে ওয়াজ শুনে লক্ষ্মীপুর ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের তা-ব : লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা কুতুবপুরের চারাতলার মাঠে সড়কে গাছ ফেলে যাত্রীদের মোবাইলফোন ও চালককে ছুড়িকাঘাত করে আলমসাধু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের চারাতলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের বিষয়টি শম্ভনগর ক্যাম্প পুলিশ স্বীকার করলেও, কিছুই জানেন না সদর থানার ওসি।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উজেলার আইলহাস ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মালতে পাড়ার মৃত মুনতাজ আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম তার আলমসাধুযোগে ঝিলখালি থেকে ওয়াজ শুনে ৯জন যাত্রী নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চারাতলার মাঠের নিকটে পৌছালে ৮/৯ জনের মুখোশধারী একটি দল একটি বাবলা গাছের ডাল সড়কের পাশে ফেলে আলমসাধুর গতিরোধ করে। পরে আলমসাধুতে থাকা যাত্রীদের মোবাইলফোন ও চালক রাশেদুলকে ছুড়িকাঘাত করে আলমসাধু ছিনিয়ে নেই। পরে যাত্রীরা চালক রাশেদুলকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ছিনতাইকারী চক্রটি রাশেদুলের বুকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে।
আলমসাধু চালক আহত রাশেদুল বলেন, সোমবার দিনগত রাতে ঝিলখালি গ্রাম থেকে ওয়াজ শুনে ৯ জন যাত্রী দিয়ে আইলহাস লক্ষীপুর যাচ্ছিলাম। চারাতলার মাঠে নিকট পৌছালে ৮/৯জনের একটি ডাকাত দল রাস্তায় বাবলা গাছের ডাল ফেলে গতিরোধ করে। পরে আলমসাধুতে থাকা যাত্রীদের দামী মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আমি আলমসাধুটি ঘুরিয়ে পিছনে যাবার চেষ্টা করলে আমার বুকে ছুড়িকাঘাত করে আলমসাধু নিয়ে চলে যায়। পরে যাত্রীরা আমাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শম্ভনগর পুলিশ ফাড়ির এএসআই আব্দুল মজিদ ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং আমরা গত সোমবার দিনগত রাত পৌনে ৩ টার দিকে টহল দেওয়ার সময় চারাতলার মাঠের রাস্তার উপরে একটা বাবলা গাছের কাটা ডাল পেয়েছি। ঘটনাটি রাত ২ টার পরে ঘটেছে। এ রোডে সাধারণত কেউ ১১ টার পরে চলাফেরা করে না। তবে আমরা ওই সড়কে রাত ১২টা পর্যন্ত ডিউটি করি। তিনি বলেন, আমার ক্যাম্পের আওতায় অনেক গ্রাম রয়েছে। আমাদের সব দিকেই দেখতে হয়। প্রত্যেকটি গ্রামেই কম বেশি যেতে হয়। ফলে এক স্থানে বেশি সময় থাকা সম্ভব হয় না। তবে ছিনতায়ের শিকার কোন লোকজনের আমার দেখা বা কথা হয়নি। তিনি আরো বলেন, তবে আমি এলাকায় বলে দিয়েছি, রাত ১১টার পরে গ্রামবাসীরা কোন সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে আমাকে যেন ফোন করে। কারণ, আমি তাদের নিরাপদে পৌছে দিতে পারি। কিন্তু গত সোমবার রাত ২ টার আগে এই রোডে ঢোকার আগে আমাকে কেউ ফোন করেনি। এএসআই মজিদ বলেন, পরদিন সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি স্যারকে ঘটনাটি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোজাম্মেল হক বলেন, এমন কোন ঘটনা আমার নলেজে নেই।